খুলনা বিভাগের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপ) প্রধান মোঃ মোটালেব শিকদারকে গাজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাছাকাছি গুলিবিদ্ধ করা হয়। ঘটনা ঘটেছে সকাল ১১:৪৫ টার দিকে, যখন শিকদারকে অজানা দোষী গোষ্ঠী গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরে সিটি স্ক্যানের জন্য একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের তদন্তকারী ইনস্পেক্টর মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, শিকদার বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় না থেকে নিরাপদে আছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনও পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে। শিকদার এনসিপের খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং জাতীয় কর্মী শক্তি (জেসিএস) সংস্থার কেন্দ্রীয় সংগঠকও ছিলেন।
গোলাগুলির পরপরই বাংলাদেশ সীমানা রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেয়। ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকি জানান, সীমান্তের ৭০ কিলোমিটার জুড়ে তদারকি, অনুসন্ধান এবং গোয়েন্দা কাজ বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি কর্মীরা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় প্যাট্রোল বাড়িয়ে দিয়েছেন। সীমান্তে বারের তারের বেড়া না থাকা অংশগুলোকে কার্যকরভাবে সিল করা হয়েছে, যাতে কোনো সন্দেহভাজন দ্রুত পারাপার করতে না পারে। অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে তদারকি শক্তিশালী করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, শিকদারের ওপর গুলি চালানো দোষীদের কোনোভাবেই ভারতীয় সীমান্ত পার হতে দেওয়া হবে না। এজন্য সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
শুটিং ঘটনার পর রাজনৈতিক পর্যায়ে উদ্বেগের সাড়া দেখা যায়। বিভিন্ন দল ও নেতারা ঘটনাটিকে নিন্দা করে এবং দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করার দাবি তীব্র করে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও তদন্তকে ত্বরান্বিত করে, সংশ্লিষ্ট দোষীদের সন্ধানে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করে জানান, শিকদারের গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা দেশের নিরাপত্তা পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপ) ও তার সহযোগী সংস্থা জাতীয় শ্রমিক শক্তি (জেসিএস) উভয়ই শিকদারের স্বাস্থ্য অবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য সহায়তা প্রদান করছে। শিকদারকে গুলি করার পেছনের উদ্দেশ্য ও দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও পরিষ্কার হয়নি, তবে তদন্ত চলমান।
বিনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি, বিজিবি অন্যান্য সীমান্ত পোস্টে সমন্বিত তদারকি চালিয়ে যাবে। লক্ষ্য হচ্ছে সন্দেহভাজনদের গোপনভাবে পারাপার করা রোধ করা এবং দেশের সীমানা রক্ষা করা।
অনুসন্ধানকালে পাওয়া প্রাথমিক প্রমাণগুলো অনুসারে, গুলিবিদ্ধের সময় শিকদার গাজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিকটবর্তী রাস্তায় ছিলেন। গুলির দায়ী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করার জন্য স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ একত্রে কাজ করছে।
শিকদারের পরিবার ও সমর্থকরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে, দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।
বিনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর এই পদক্ষেপগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে আরও কঠোর তদারকি ও সমন্বিত নিরাপত্তা নীতি প্রয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



