22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনারের ব্যাখ্যা: হামলার রাতে পুলিশ কেন না হস্তক্ষেপ করল

ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনারের ব্যাখ্যা: হামলার রাতে পুলিশ কেন না হস্তক্ষেপ করল

ঢাকার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সোমবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস.এন. মো. নজরুল ইসলাম ব্যাখ্যা করেন, গত রাতের হামলার সময় পুলিশ কেন সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। তিনি জানান, সেই মুহূর্তে কোনো মানবিক ক্ষতি না ঘটলে তা তাদের জন্য সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

কমিশনারের মতে, হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে পুলিশকে ‘অ্যাকশনে’ নামাতে না পারার মূল কারণ হল সম্ভাব্য প্রাণহানি রোধ করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি কোনো মানবিক জীবন হারিয়ে যায়, তা কোনো মূল্যে ফেরত আনা সম্ভব নয়, তাই আমরা সেই মুহূর্তে পদক্ষেপ নিতে পারিনি।”

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, মানবিক ক্ষতি না ঘটলে তা একটি বড় ঘটনার ‘অর্জন’ হিসেবে বিবেচিত হয়। “কোনো ধরনের ক্যাজুয়ালটি না ঘটিয়ে আমরা এই ঘটনাকে ট্যাকল করেছি,” তিনি বলেন, যা পুলিশ বাহিনীর নিরাপত্তা নীতি প্রতিফলিত করে।

কমিশনার আরও জানান, “সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু মানবিক জীবন হারিয়ে গেলে তা কোনো বিনিময়ে ফিরিয়ে আনা যায় না।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, মানবজীবনের রক্ষা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

সাক্ষাৎকারে তিনি ১৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য শেয়ার করেন। তালিকায় মো. নাইম, মো. আকাশ আহমেদ সাগর, মো. আব্দুল আহাদ, মো. বিপ্লব, মো. নজরুল ইসলাম মিনহাজ, মো. জাহাঙ্গীর, মো. সোহেল রানা, মো. হাসান, রাসেল (শাকিল নামে পরিচিত), মো. আব্দুল বারেক শেখ আলামিন, রাশেদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মো. প্রান্ত (ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত), আবুল কাসেম, রাজু হোসাইন এবং মো. সাইদুর রহমান অন্তর্ভুক্ত।

গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক সংযুক্তি নিয়ে প্রশ্নে কমিশনার জানান, “আমি তাদের রাজনৈতিক দিক খুঁজে বের করতে চাই না; তারা দুষ্কৃতিকারী এবং আইন লঙ্ঘন করেছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যে দল বা মতের হোক না কেন, তাদের আইন অনুযায়ী বিচার করা হবে।”

পুলিশের ওপর আক্রমণ হওয়ার পর এই বাহিনীর সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া “সম্ভব নয়” বলে তিনি মন্তব্য করেন। “পুলিশের দুই-চারজন সদস্য যদি সেই রাতে নিহত হতো, তবে পুরো কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হতো,” তিনি বলেন, যা পূর্ববর্তী ট্রমা এবং বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে।

কমিশনার উল্লেখ করেন, “পুলিশ এক বছর আগে বড় ট্রমা থেকে সেরে উঠছে, এবং এখন নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন।” তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

অধিক তদন্তের জন্য ডিএমপি দল ইতিমধ্যে প্রমাণ সংগ্রহ এবং সাক্ষী বিবৃতি গ্রহণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত আদালতে দাখিল করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়।

আইনি দিক থেকে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তারা আদালতে উপস্থিত হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় তাদের অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএমপি কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে নতুন নির্দেশনা এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হবে। এছাড়া, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments