ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর – রাশিয়ার ঢাকা দূতাবাসে সোমবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা দ্রুত কমানোর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান বিরোধের সমাধান না হলে উভয় দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সম্মেলনটি রাশিয়ান ফেডারেশনের ঢাকা মিশনের প্রধান কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দূতাবাসের কর্মীরা ও স্থানীয় মিডিয়া প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খোজিনের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, বর্তমান উত্তেজনা যেন শীঘ্রই সমাধান হয়ে যায়, তা না হলে তা আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সমাধান না করা হলে তা উভয় দেশের জনগণের স্বার্থে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
দূতাবাসের মুখপাত্রের মতে, রাশিয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে কোনো হস্তক্ষেপের ইচ্ছা রাখে না। খোজিন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, রাশিয়ার নীতি হল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা। তিনি যুক্তি দেন, কোনো তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ না করে দুই দেশই স্বতন্ত্রভাবে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।
দূতাবাসের এই বিবৃতি অনুসারে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে তোলা প্রয়োজন। খোজিন উল্লেখ করেন, দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব বজায় রাখতে এই মৌলিক নীতিগুলি অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যেন অতিরিক্ত উত্তেজনা না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে অগ্রসর হয়।
খোজিনের মন্তব্যে তিনি বর্তমান উত্তেজনা বাড়িয়ে না দেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উভয় পক্ষেরই উচিত সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা এবং কোনো ধরণের হিংসাত্মক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে দূতাবাসের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। খোজিন জানিয়েছেন, রাশিয়া ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের জন্য শুভেচ্ছা জানায় এবং আশা করে যে নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন দিকনির্দেশনা স্থাপন করবে।
দূতাবাসের প্রতিনিধিরা আরও জানান, রাশিয়া নির্বাচনের আগে দেশের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল রাখতে চায়। খোজিনের মতে, একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশই সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি। তিনি আশাবাদী যে সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক গোষ্ঠী শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠন করবে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে খোজিন রাশিয়ার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চলমান যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাশিয়া এখনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আমন্ত্রণ পেলে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেবে। এই পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাশিয়ার এই ঘোষণার পর, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিশ্লেষকরা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছেন। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, রাশিয়ার ন্যূনতম হস্তক্ষেপের নীতি দুই দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে স্বতন্ত্র সমাধানের সুযোগ বাড়াবে। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক ইঙ্গিত করছেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ছাড়া উত্তেজনা হ্রাস করা কঠিন হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, রাশিয়ার এই মন্তব্যের সময় বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ ইতিমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে। তাই রাশিয়ার শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান দেশীয় রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রাশিয়ান দূতাবাসের এই প্রকাশনা বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনা হ্রাসের জন্য একটি আন্তর্জাতিক নরম সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করে, তবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে সংলাপের পথে অগ্রসর হতে আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, রাশিয়া দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।



