অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি সমুদ্রসৈকতে ২০২৪ সালের শেষের দিকে সংঘটিত হিংসাত্মক হামলা দেশের ক্রীড়া জগতকে অশান্ত করে তুলেছে। হামলাটিতে দুই ব্যক্তি, সাজিদ আকরাম ও নাভিদ আকরাম, অপরাধে জড়িত বলে চিহ্নিত হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে একাধিক আহত হয়েছে।
হামলার পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার উসমান খাজা ও তার পরিবারকে লক্ষ্য করে অনলাইন ঘৃণামূলক মন্তব্যের বন্যা দেখা দিয়েছে। খাজা, যিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জন্মগ্রহণ করে পাঁচ বছর বয়সে পরিবারসহ সিডনিতে বসতি স্থাপন করেন, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার স্ত্রী র্যাচেল খাজা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, যেখানে তাদের দুই কন্যার নামসহ অশ্লীল ও বৈষম্যমূলক মন্তব্য করা হয়েছে।
র্যাচেল খাজা মন্তব্যে জানান, গত এক সপ্তাহে তাদের পরিবারের দিকে আসা মন্তব্যের একটি ছোট নমুনা তিনি শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এমন ঘটনা প্রথম নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘৃণার মাত্রা বেড়ে গেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই কঠিন সময়ে আমাদের একসঙ্গে থাকা আগের চেয়ে বেশি জরুরি।” তার এই বক্তব্যে সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সমর্থনের আহ্বান স্পষ্ট।
বন্ডি সমুদ্রসৈকতে ঘটিত হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামফোবিয়া ও অ্যান্টি-ইসলাম মনোভাবের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ক্রিকেটের মতো জাতীয় গর্বের খেলায় বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্য প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। উসমান খাজা, যিনি অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গর্বের সঙ্গে পরিধান করেন, তার পরিচয়ই এখন অনলাইন আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
খাজা পরিবারের উপর আক্রমণ কেবল অনলাইন মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, দুই কন্যার নাম ও ছবি ব্যবহার করে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে। এই ধরনের আক্রমণ পরিবারকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তাদের নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে এবং সকল ধরণের বৈষম্য ও ঘৃণার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
খাজা পরিবার এই পরিস্থিতিতে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে, সমর্থন ও সংহতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। র্যাচেল খাজা সামাজিক মিডিয়ায় লিখেছেন, “এই শোকের মুহূর্তে বিভাজন নয়, বরং একে অপরের পাশে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তার এই আহ্বান অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
বন্ডি সমুদ্রসৈকতে ঘটিত হামলা এবং তার পরবর্তী সামাজিক প্রতিক্রিয়া অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া ও সমাজের মধ্যে বিদ্যমান গঠনমূলক সমস্যাগুলোকে উন্মোচিত করেছে। উসমান খাজা ও তার পরিবারের ওপর লক্ষ্যবস্তু করা ঘৃণামূলক মন্তব্যের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্যের উত্থানকে নির্দেশ করে।
এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ক্যালেন্ডারেও প্রভাব পড়তে পারে। উসমান খাজা আগামী সিরিজে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে তার নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সামাজিক সংহতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও ক্রীড়া সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে। উসমান খাজা ও র্যাচেল খাজা উভয়ই এই সময়ে সমর্থন ও সংহতির বার্তা দিয়ে সমাজকে একত্রিত করার চেষ্টা করছেন, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



