ঢাকায় আজ একত্রিত প্রতিবাদ সভায় এডিটরস কাউন্সিল ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (NOAB) একসাথে “বাংলাদেশে গোষ্ঠী হিংসার আক্রমণ” শিরোনামে আলোচনা করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথা আলো’র সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, যিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হুমকির প্রকৃতি নিয়ে সতর্কতা জানান।
মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর প্রকাশিত হুমকি আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নয়, বরং জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে এমন বার্তা দেখা গেছে, যেখানে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথা আলো’র সাংবাদিকদের বাড়িতে গিয়ে হত্যা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ধরনের হুমকি কেবল মতামত নয়, সরাসরি প্রাণঘাতী হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত সপ্তাহে দ্য ডেইলি স্টার অফিসে আক্রমণ ঘটার পর, আনাম স্বীকার করেন যে প্রথমে পুরো ঘটনা সম্পর্কে তিনি অজ্ঞ ছিলেন, তবে পরে জানা যায় যে বহু কর্মী ভবনের ছাদে আটকে ছিলেন। তিনি জানান, প্রায় ২৫-২৬ জন সহকর্মী ছাদে আটকে ছিলেন এবং যদি কোনো গোষ্ঠী ইচ্ছা করত, তবে তারা সাংবাদিকদের বের করে নিয়ে ভবনটি পুড়িয়ে দিতে পারত।
আক্রমণের সময়, অগ্নি সেবার কর্মীরা প্রাথমিকভাবে ভবনে প্রবেশে বাধা পেয়েছিলেন, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছিল। আনাম জোর দিয়ে বলেন, এখন বিষয়টি কেবল মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়, বরং জীবিত থাকা অধিকার নিয়ে। তিনি সাংবাদিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রিত হয়ে এই ধরনের হুমকির মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানান, এবং কোনো ধরনের সহিংসতা না করে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত NOAB সভাপতি এ কে আজাদও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শেয়ার করেন। তিনি জানিয়েছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে একটি বৃহৎ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ও কৌশল নির্ধারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মাহফুজ আনামের বক্তব্যের পর, অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তারা উল্লেখ করেন, হুমকি ও সহিংসতার মুখে সাংবাদিকদের কাজ চালিয়ে যাওয়া কেবল তাদের পেশাগত দায়িত্ব নয়, গণতন্ত্রের সুরক্ষার জন্যও অপরিহার্য।
এই সভা এবং আনামের মন্তব্যগুলো দেশের মিডিয়া পরিবেশে বাড়তে থাকা হুমকির প্রতি একটি স্পষ্ট সংকেত দেয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তথ্যপ্রদান ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সাংবাদিকরা কোনো ভয় ছাড়াই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, সাংবাদিকদের ওপর হুমকি এখন কেবল মত প্রকাশের সীমা নয়, বরং তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং জাতীয় স্তরে নীতি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।



