22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগুজরাটের ভদোদরায় কিশোরী পিতার ঘুমের ওষুধে হত্যা, দুই যুবক গ্রেফতার

গুজরাটের ভদোদরায় কিশোরী পিতার ঘুমের ওষুধে হত্যা, দুই যুবক গ্রেফতার

গুজরাটের ভদোদরা শহরে ১৭ বছর বয়সী কিশোরী একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তার পিতা শানা চাবড়াকে ঘুমের ওষুধে নিদ্রা অবস্থায় মেরে ফেলেছে। হত্যাকাণ্ডটি ১৬ ডিসেম্বর রাতের খাবারের সময় ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শানা চাবড়া তার কন্যার প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ককে কঠোরভাবে নিন্দা করতেন। কন্যা রঞ্জিত গজেন্দ্রভাই বাঘেলা নামে ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে পড়ে। সম্পর্কের কথা জানার পর শানা তীব্র রাগ প্রকাশ করেন এবং কন্যাকে ঘরে বন্ধ করে রাখেন, যাতে সে প্রেমিকের সঙ্গে পালাতে না পারে।

কন্যা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জুলাই মাসে প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং পরে পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। শানা জেল থেকে মুক্তি পেয়ে কন্যার বাড়িতে ফিরে আসার পর প্রেমিক ও তার এক বন্ধুর সঙ্গে সমন্বয় করে পিতার মৃত্যুর পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর রাতের খাবারের সময় শানা-কে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে প্রথমে তা ব্যর্থ হয়। এরপর একই খাবারে ঘুমের গুঁড়ি যোগ করা হয়, যার ফলে শানা গভীর নিদ্রায় পড়ে। কন্যা জানালার মাধ্যমে পুরো দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করে এবং পিতার মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থেকে থাকে।

শানা নিদ্রা অবস্থায় থাকাকালীন প্রেমিক এবং তার বন্ধুরা ছুরি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং শানাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। গুলি-আঘাতের পাশাপাশি দেহে একাধিক কাটা-চিহ্ন পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের পর প্রেমিক ও তার বন্ধু দ্রুত বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, তবে কন্যা তাদের পিছু নেয় এবং পালাতে সাহায্য করে।

স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং শানার দেহ উদ্ধার করে। তদন্তে প্রকাশ পায় যে শানার কন্যা ও তার প্রেমিকসহ মোট তিনজন এই অপরাধে জড়িত ছিলেন। ইতিমধ্যে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কন্যাকে সরকারি সেফ হোমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ভদোদরার জেলা পুলিশ সুপারইন্টেন্ডেন্ট সুশীল আগরওয়াল জানান, শানার কন্যা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে পিতার সঙ্গে সম্পর্কের বাধা দূর করার জন্য পরিকল্পনা গড়ে তুলছিল। শানা তার কন্যাকে ঘরে বন্ধ করে রাখতেন এবং প্রেমিকের সঙ্গে পালাতে না পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। এই অবস্থা কন্যার ক্রোধকে তীব্র করে এবং শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের দিকে নিয়ে যায়।

পুলিশের মতে, কন্যার প্রেমিক একটি পাঁপড় কারখানায় কাজ করতেন এবং তিনি ও তার সহকারীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘুমের ওষুধের গুঁড়ি দুটোই উদ্ধার করা হয়েছে। এখন মামলাটি স্থানীয় আদালতে দায়ের করা হবে, যেখানে গ্রেফতারকৃত দুজন যুবকের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে এবং কন্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সেফ হোমে রাখা হবে।

এই ঘটনা গুজরাটে পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা এবং যুবকদের অপরাধমূলক প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি উল্লেখ করেছে যে, পারিবারিক বিরোধের সময় যথাযথ পরামর্শ ও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের হিংসাত্মক ফলাফল রোধ করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments