27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়কে আইনি চ্যালেঞ্জের হুমকি, লিঙ্গ গবেষণার বক্তার বক্তব্যে প্রতিবাদ

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়কে আইনি চ্যালেঞ্জের হুমকি, লিঙ্গ গবেষণার বক্তার বক্তব্যে প্রতিবাদ

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়কে এক শীর্ষস্থানীয় একাডেমিকের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপের হুমকি জানানো হয়েছে। অ্যালিস সুলিভান, যিনি লিঙ্গ ও যৌন পরিচয় সংক্রান্ত সরকারী পর্যালোচনার প্রধান, তার বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আলোচনায় ট্রান্স অধিকার সমর্থকদের প্রতিবাদে বাধা পড়ে।

সুলিভান প্রফেসর সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে জৈবিক লিঙ্গ এবং লিঙ্গ পরিচয়কে আলাদা ক্যাটেগরি হিসেবে রেকর্ড করার সুপারিশ করেন। এই সুপারিশটি যুক্তরাজ্যের সরকারী নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ব্যাপক মনোযোগ পেয়েছে।

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকর্মী জুলাই ২০২৪-এ সুলিভানকে বক্তৃতার জন্য আমন্ত্রণ জানান, এবং তিনি শরৎকালে অনুষ্ঠিত হওয়া ইভেন্টে অংশ নিতে সম্মতি দেন। বিশ্ববিদ্যালয় পরে ইভেন্টটি অনলাইনভাবে করার প্রস্তাব রাখে, তবে সুলিভান তা প্রত্যাখ্যান করেন।

ইভেন্টের দিন ট্রান্স অধিকার সমর্থকরা ক্যাম্পাসে সমাবেশ করে বক্তার বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি করেন। প্রতিবাদকারীরা মাইক্রোফোনে চিৎকার, প্যানেল চিহ্নিত করে এবং বক্তার কথা কাটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন, যা ইভেন্টের স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করে।

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় এই ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য ব্যাঘাত” হিসেবে স্বীকার করে, তবে দাবি করে যে বক্তৃতা নিরাপদে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাধীন মতপ্রকাশের নীতিকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করেছে।

ইংল্যান্ডে আগস্ট মাসে কার্যকর হওয়া নতুন উচ্চশিক্ষা স্বাধীন মতপ্রকাশ আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষকমণ্ডলী, ছাত্র ও অতিথি বক্তাদের মত প্রকাশের অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রতিবাদকারীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকারও স্বীকৃত।

সুলিভান বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি চিঠি লিখে জানান যে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, এবং একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রক অফিস ফর স্টুডেন্টস-এও অভিযোগ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে ইভেন্টটি অনলাইন করার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করার কারণ স্পষ্ট করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় তার বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছে যে সব ধরনের ব্যবস্থা স্বাধীন মতপ্রকাশের পক্ষে নেওয়া হয়েছে, এবং কোনো অংশগ্রহণকারীকে হুমকি বা বাধা দেওয়া হয়নি। তবে প্রতিবাদকারীদের কার্যকলাপকে “অগ্রহণযোগ্য ব্যাঘাত” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবাদকারীরা লিঙ্গ পরিচয় সংক্রান্ত মতবিরোধের ওপর ভিত্তি করে তাদের অবস্থান প্রকাশ করলেও, সুলিভান জোর দিয়ে বলেন যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ স্বাভাবিক অধিকার, তবে তা অন্যের বক্তৃতা বন্ধ করার হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। তিনি “হেকলার ভেটো” শব্দটি ব্যবহার করে এমন পরিস্থিতি বর্ণনা করেন, যেখানে একদল লোকের প্রতিবাদ পুরো ইভেন্টকে নীরব করে দেয়।

সুলিভানের মতে, যদিও কিছু মানুষ লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে তীব্র বিরোধী মত পোষণ করতে পারেন, তবুও তাদের মত প্রকাশের অধিকার স্বীকার করা দরকার। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য প্রতিবাদের মাত্রা অনুমান করতে পারেননি, তবে এখন তিনি এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চান।

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদ অধিকার কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উভয় অধিকার রক্ষা করতে হবে, তবে কোনটি কখন অগ্রাধিকার পাবে তা নির্ধারণে জটিলতা রয়ে গেছে।

পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি আপনি কোনো ক্যাম্পাসে বক্তৃতা বা সেমিনারে অংশ নিতে চান, তবে ইভেন্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য প্রতিবাদ সম্পর্কে পূর্বেই তথ্য সংগ্রহ করুন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন মতপ্রকাশ নীতি এবং প্রতিবাদ নীতিমালা সম্পর্কে জানলে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকা সহজ হবে।

আপনার মতামত কী? বিশ্ববিদ্যালয় কি যথাযথভাবে উভয় অধিকার রক্ষা করতে পারছে, নাকি আরও স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন?

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments