হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে তার সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সন্দেহভাজন যদি কোনো বিদেশি দেশে গিয়ে থাকে, তা অবৈধ পথে গমন হতে পারে, তবে তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এই মন্তব্যটি সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সচিবালয়ের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া হয়। উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, যদি সন্দেহভাজনের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকত, তবে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হতো। বর্তমানে তারা দেশের ভিতরে বা বাইরে উভয় দিকেই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখনো সঠিক অবস্থান জানার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
হাদি হত্যার মামলায় তদন্তের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে উপদেষ্টা জানান, সরকার এই মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এই অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হবে না এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ পর্যন্ত যৌথ বাহিনী হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত মোট দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তৃতদের মধ্যে রয়েছে সন্দেহভাজনের স্ত্রী শাহিদা পারভীন সামিয়া, তার মা-বাবা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, শিপু এবং মোটরসাইকেল মালিক আবদুল হান্নান। এই গ্রেপ্তারগুলো মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার দিনভর উপদেষ্টা পদত্যাগের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পদত্যাগ করলে তিনি আর দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না, তাই এই গুজবের কোনো ভিত্তি নেই।
দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা ২০ জন রাজনীতিবিদকে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে। উপদেষ্টা জানান, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য গার্ড (গানম্যান) বরাদ্দ করেছে। তবে কিছু ব্যক্তি গার্ড গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে আগমনের প্রস্তুতি চলমান। উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের সফরের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না, তবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, হাদি হত্যার মামলায় তদন্তের অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে সরকারী দিক থেকে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করে সন্দেহভাজনের অবস্থান নির্ণয় এবং অপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।



