খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গা এলাকায় দুপুরের কাছাকাছি গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে জাতীয় শ্রমিক শক্তি (এনসিপি) খোলনা বিভাগীয় প্রধান মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হন। গুলির প্রভাব তার মাথার বাম পাশে পড়ে, তবে তিনি প্রাণে বেঁচে আছেন।
ঘটনা ঘটেছে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে, যখন শিকদার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনের একটি বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তার মাথার চামড়া স্পর্শ করে চলে গিয়েছে, ফলে রক্তক্ষরণ হলেও তা তীব্র না থেকে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়।
মোতালেব শিকদার এনসিপি’র জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক এবং খুলনা মহানগরের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে পরিচিত। তিনি সম্প্রতি খুলনা শহরে একটি বিভাগীয় শ্রমিক সমাবেশের প্রস্তুতির কাজ চালাচ্ছিলেন, যা কয়েক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
গোলাগুলির পর শিকদারকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর, তার মাথার সিটি স্ক্যানের জন্য সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, শিকদার এখন গুলির ফলে কোনো গুরুতর স্নায়বিক ক্ষতি থেকে মুক্ত এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিকদারকে ড্রেসিং রুমে প্রাথমিক পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা করা হয়েছে এবং এখন তিনি পর্যবেক্ষণাধীন আছেন।
সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল গুলির ঘটনার স্থান ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, গুলি চালানো বাসাটি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনের অংশে অবস্থিত এবং গুলি শিকদারের মাথার চামড়া স্পর্শ করে চলে গিয়েছে।
পরিদর্শক মণ্ডল আরও জানান, গুলির ফলে রক্তক্ষরণ হলেও শিকদার দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ায় তার প্রাণ রক্ষা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গুলির সুনির্দিষ্ট দিক ও গুলির ধরণ এখনও তদন্তের অধীনে রয়েছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনায় এখনো কোনো সন্দেহভাজী গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ গুলির গুলি চালানোর সম্ভাব্য উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এনসিপি’র খুলনা মহানগরের সংগঠক সাইফ নেওয়াজ শিকদারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার শক প্রকাশ করে বলেন, শিকদারকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। তিনি শিকদারের নেতৃত্বে পরিকল্পিত শ্রমিক সমাবেশের গুরুত্ব উল্লেখ করে, এই ঘটনার ফলে সমাবেশের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শিকদারকে গুলি করার উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গুলির সময় আশেপাশে কোনো অস্বাভাবিক গতি-প্রবাহ লক্ষ্য করা যায়নি।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গুলিবিদ্ধের বিরুদ্ধে গুলি চালানো একটি গুরুতর অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুলিবিদ্ধের শিকারীকে ‘হত্যা প্রচেষ্টা’ বা ‘গুরুতর শারীরিক আঘাত’ হিসেবে দায়ের করা সম্ভব, তবে তা তদন্তের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে।
পুলিশ গুলির গুলি চালানোর জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন, গুলি চালানোর সময়ের সুনির্দিষ্ট সময় ও গুলির দিক নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালাচ্ছে। এছাড়া, গুলির আশেপাশে সম্ভাব্য সিসিটিভি রেকর্ড সংগ্রহের কাজও চলছে।
শিকদারকে গুলি করার পর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি উত্থাপিত হয়েছে। এনসিপি’র অন্যান্য নেতারা শিকদারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে, একই সঙ্গে স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যৎ কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত গুলিবিদ্ধের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও সন্দেহভাজীর পরিচয় অজানা রয়ে যাবে। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ঘটনার দ্রুত সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



