22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধপ্রথম আলো‑ডেইলি স্টার হামলার পর ১৭ জন গ্রেপ্তার, লুটের টাকা দিয়ে টিভি‑ফ্রিজ...

প্রথম আলো‑ডেইলি স্টার হামলার পর ১৭ জন গ্রেপ্তার, লুটের টাকা দিয়ে টিভি‑ফ্রিজ কিনেছেন মো. নাইম

ঢাকা শহরের তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত কুনিপাড়া বাসিন্দা মো. নাইমসহ মোট সতেরজন সন্দেহভাজনকে সাম্প্রতিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং দুইটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিসে আক্রমণের পর দেশব্যাপী পরিচালিত অভিযান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের প্রধান কারণ ছিল এই আক্রমণগুলোর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের চিহ্নিতকরণ ও প্রমাণ সংগ্রহ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, অভিযানে সংশ্লিষ্ট সকল সন্দেহভাজনের পরিচয় ও অবস্থান যাচাই করা হয়েছে।

অভিযানটি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালেই শুরু হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে মো. নাইমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে লুটের অংশ হিসেবে ৫০,০০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য সন্দেহভাজনেরও একই রকম জব্দ এবং জবরদস্তি করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সতেরজনের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি, তবে মো. নাইমের মতোই অন্যান্য সন্দেহভাজনও লুটের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ওপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লুটের পরিমাণ, ব্যবহৃত পদ্ধতি এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

মো. নাইমের ক্ষেত্রে, তার কুনিপাড়া বাসস্থানের ঠিকানা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গ্রেপ্তার স্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি প্রথম আলো‑ডেইলি স্টার আক্রমণের পর লুট করা অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সামগ্রী ক্রয় করেন বলে স্বীকার করেন। এই স্বীকারোক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপে ব্যবহার করা হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. নাইম মোট ১,২৩,০০০ টাকা লুটের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি এই অর্থের কিছু অংশ ব্যবহার করে মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি টেলিভিশন ও একটি ফ্রিজ ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত এই দুইটি সামগ্রীই ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রমাণস্বরূপ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

লুটের অর্থের মধ্যে ৫০,০০০ টাকা সরাসরি মো. নাইমের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে। বাকি ৭৩,০০০ টাকা সম্পর্কে এখনও সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে তদন্তকারী দল তা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। জব্দকৃত অর্থের বিশ্লেষণ ও রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

মো. নাইমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তিনি লুট করা অর্থের মাধ্যমে টেলিভিশন ও ফ্রিজ কেনার জন্য মোহাম্মদপুর এলাকায় একাধিক দোকানে গিয়েছিলেন। ক্রয়কৃত পণ্যের মডেল ও ব্র্যান্ডের বিস্তারিত তথ্যও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে, যা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইতিমধ্যে টেলিভিশন ও ফ্রিজের মালিকানা পরিবর্তন রেকর্ড পরীক্ষা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের কাছ থেকে বিক্রয় রসিদ সংগ্রহ করেছে। এই রসিদগুলোকে প্রমাণস্বরূপ সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আদালত শুনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে যে, সকল সন্দেহভাজনকে দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে লুট, চুরি এবং সশস্ত্র হামলার অভিযোগ আনা হবে এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মামলাটি এখনো চলমান এবং তদন্তের পরিধি বিস্তৃত। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো লুটের অর্থের গন্তব্য, অন্যান্য সহ-অপরাধীর পরিচয় এবং আক্রমণের পরিকল্পনা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অধিকন্তু, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ধরনের আক্রমণ পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে একই ধরণের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সতর্ক করেছে যে, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য দ্রুত জানাতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে সকল সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রমাণের যথাযথ রেকর্ড বজায় রাখা হবে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments