27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকথাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষের সমাধানে আলোচনা, সামরিক বৈঠকের প্রস্তুতি

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষের সমাধানে আলোচনা, সামরিক বৈঠকের প্রস্তুতি

থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া সরকার পরবর্তী সপ্তাহে একত্রিত হয়ে সীমান্তে চলমান সংঘর্ষের সমাধান ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এই নতুন মোড়টি তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছেছে এমন রক্তপাতপূর্ণ সীমানা লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে।

দুই দেশ জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে একটি যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করেছিল। তবে এই মাসের শুরুর দিকে পুনরায় গুলি চালু হওয়ায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে দাবি তুলেছে।

সোমবার মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সংস্থা (আসিয়ান) শীর্ষ সম্মেলনে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রথমবার মুখোমুখি হয়। এই সাক্ষাৎকারে উভয় দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা পুনরায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেওউ উল্লেখ করেছেন যে, জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সময়ের চাপের কারণে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্পের সফরের আগে স্বাক্ষর সম্পন্ন করার জন্য দ্রুততা বজায় রাখা হয়েছিল।

মন্ত্রীর মতে, এখন সময় এসেছে উভয় পক্ষের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের একত্রে বসে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী একটি কার্যকরী যুদ্ধবিরতি তৈরি করার। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের আগে মাঠে চলমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ফুয়াংকেটকেওউ আরও জানিয়েছেন যে, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। এই বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

কম্বোডিয়া সরকার এখনও এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে উভয় দেশের সামরিক সংঘর্ষের ফলে এই মাসে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু এবং প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সীমান্তে গুলি চালানোর পরিধি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দীর্ঘ, যেখানে আর্টিলারি ও রকেটের বিনিময় ঘটছে। থাইল্যান্ডের বিমানবাহিনীরাও কম্বোডিয়ার নির্দিষ্ট অবস্থানে বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান উভয় পক্ষকে এবং অন্যান্য আসিয়ান সদস্য দেশগুলোকে এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ জরুরি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, অব্যাহত উত্তেজনা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ধরনের সীমান্ত সংঘর্ষ পূর্বে মিয়ানমার-থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়া সীমান্তে দেখা গিয়েছে, যেখানে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা প্রায়ই সমাধানের পথ তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি একই রকম আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার কূটনৈতিক দলগুলি এখনো পরস্পরের দায়িত্বের দিকটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেনি, তবে উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি পুনরায় চালু করার জন্য আলোচনার দরজা খুলে রেখেছে। এই আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রভাব ফেলবে।

পরবর্তী সপ্তাহে নির্ধারিত সামরিক বৈঠকের ফলাফল এবং ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থাকবে। যদি সফলভাবে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি গৃহীত হয়, তবে সীমান্তের অশান্তি কমে যাবে এবং স্থানীয় জনগণের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।

অবশ্যই, এই আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের ওপর। আসিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান শক্তিগুলোর ভূমিকা এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বশেষে, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সামরিক সমন্বয়ই এই দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত সংঘর্ষের সমাধানের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments