যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের আর্থিক বরাদ্দে বিশাল বৃদ্ধি ঘটিয়েছেন। এই আদেশের ফলে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন বছরের জন্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) দুই সংস্থাকে মোট প্রায় ১৭,০০০ কোটি ডলার (প্রায় ১৭০ বিলিয়ন ডলার) সরকারি তহবিল প্রদান করা হবে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ICE ও CBP-কে একত্রে ১,৯০০ কোটি ডলার (১৯ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছিল। ট্রাম্পের নতুন আদেশের ফলে ২০২৬ থেকে ২০২৯ পর্যন্ত প্রতি বছর এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৫,৬০০ কোটি ডলার (৫৬ বিলিয়ন ডলার) অতিরিক্ত তহবিল প্রদান করা হবে, যা পূর্বের বরাদ্দের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।
এই আর্থিক বৃদ্ধি ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি অবৈধ অভিবাসী মুক্ত দেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট জিতেছিলেন। ২০ জানুয়ারি ২০২৫-এ শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযান চালু করার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।
অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের দিন থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬,২২,০০০ অবৈধ অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশ ফিরে পাঠানো হয়েছে। নতুন বাজেটের লক্ষ্য ২০২৬ সাল থেকে প্রতি বছর এক মিলিয়ন (১০ লক্ষ) অবৈধ অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো, যা পূর্বের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
বাজেটের এই বিস্তৃত বৃদ্ধি এবং লক্ষ্যকৃত ডিপোর্টের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতির ওপর প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত তহবিলের মাধ্যমে ICE ও CBP-কে আরও কর্মী নিয়োগ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ হবে।
অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে, কিছু বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংস্থা অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব ও ডিপোর্টের মানবিক দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপকে দেশের সীমানা রক্ষা এবং অবৈধ অভিবাসনের ফলে সৃষ্ট সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই আর্থিক পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হবে এবং পরবর্তী কয়েক বছর ধরে ICE ও CBP-র কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে। ভবিষ্যতে এই নীতি কতটা সফল হবে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কী হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



