নিউজিল্যান্ডের তরুণ পেসার জ্যাকব ডাফি, পশ্চিম ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তিন টেস্টের সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ৪০ বছর পুরোনো রেকর্ডকে ভেঙে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন।
সিরিজের পুরো সময়কালে তিনি মোট ২৩টি উইকেট নেন, যার মধ্যে তিনটি টেস্টে পাঁচটি করে উইকেটের ফাইফার রয়েছে, ফলে তিনি সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের উপাধি অর্জন করেন।
এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলির ৪০ বছরের পুরনো রেকর্ডকে অতিক্রম করেন, যিনি একই সিরিজে ৭৯টি উইকেট নিয়ে গড়ে ১৮.৫১ উইকেট প্রতি ইনিংসের রেকর্ড রাখতেন।
ডাফির গড় ১৭.১১ উইকেট প্রতি ইনিংস, যা তিনি ৩৯টি ইনিংসে অর্জন করেছেন, হ্যাডলির গড়ের তুলনায় কম এবং নতুন রেকর্ড গঠন করে।
সিরিজের তৃতীয় টেস্টে, মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে, ডাফি ২২.৩ ওভারে মাত্র ৪২ রান খরচে পাঁচটি উইকেট নেন, যার ফলে নিউজিল্যান্ড ৩২৩ রানের বড় জয় অর্জন করে।
এই ম্যাচে তার পারফরম্যান্সই সরাসরি রেকর্ড ভাঙার মূল কারণ, যেখানে তিনি হ্যাডলির ৪০ বছর পুরনো রেকর্ডকে নতুন করে লিখে ফেলেন।
পশ্চিম ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ৮৭ রানের শক্তিশালী ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়ে তুললেও, পরবর্তী অংশে দলটি দ্রুত পতন দেখায়; বাকি সব উইকেট মাত্র ৫১ রানের ব্যবধানে নেমে আসে, যা তাদের স্কোরকে নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয়।
ম্যাচের পর লাঞ্চের সময় ডাফি সর্বোচ্চ উইকেটধারীদের তালিকা দেখেন এবং সেখানে নিজের নাম দেখতে গর্বের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই তালিকায় নিজের নাম দেখতে সত্যিই বিশেষ এবং গর্বের বিষয়।
সিরিজের মোট স্কোরে নিউজিল্যান্ডের আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স এবং ডাফির বোলিং পারফরম্যান্সের সমন্বয় দলকে ধারাবাহিকভাবে জয় এনে দেয়।
কোচরা ডাফির ধারাবাহিকতা, সঠিক লাইন এবং গতি প্রশংসা করেন, যা টেস্ট ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটিংকে সীমাবদ্ধ রাখে।
ডাফির এই সাফল্য নিউজিল্যান্ডের বোলিং ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায় সূচনা করে, যেখানে তরুণ পেসাররা পুরনো রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের স্থান দৃঢ় করে।
সিরিজের শেষে ডাফির গড় এবং মোট উইকেটের সংখ্যা হ্যাডলির রেকর্ডের তুলনায় স্পষ্টভাবে কম গড়ে বেশি উইকেট সংগ্রহের ক্ষমতা দেখায়, যা তার ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সের জন্য আশাব্যঞ্জক সূচক।
দলীয়ভাবে, নিউজিল্যান্ডের বোলিং ইউনিট এই সিরিজে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়, যা তাদের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডাফির রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্সের পর, নিউজিল্যান্ডের ভক্ত ও বিশ্লেষকরা তার ভবিষ্যৎ গেমে আরও বড় অবদান প্রত্যাশা করছেন, এবং তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারেন।



