যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের অধীনে এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল সম্পর্কিত নথি প্রকাশে বাধ্য হয়েছে। প্রকাশিত নথিগুলোর বেশিরভাগই লালচে রঙে আচ্ছাদিত, ফলে তথ্যের পূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নথিগুলোর কিছু অংশ ওয়েবসাইট থেকে অচেনা ভাবে মুছে ফেলা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা দাবিকারীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
নথিগুলোর মধ্যে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ রয়েছে, তবে তার বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। এক আদালতের রেকর্ডে উল্লেখ আছে যে, এপস্টেইন একটি নাবালিকা মেয়েকে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্টে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে মেয়েটির পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় এপস্টেইন ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করেন। সেই মুহূর্তে ট্রাম্প হাসি দিয়ে মাথা নেড়ে সম্মতি জানানোর অভিযোগ রয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টে বলা হয়েছে, এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েল সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক, কারণ ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে যৌন পাচারের মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ডে রয়েছেন। নতুন প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-কে এপস্টেইন সম্পর্কে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানানো হয়। এই অভিযোগের সূত্র ছিলেন মারিয়া ফার্মার, যিনি দাবি করেন যে, অভিযোগের পরেও কোনো তদন্ত শুরু হয়নি। ফার্মার একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, বহু বছর পর সত্য প্রকাশে তিনি বিশাল স্বস্তি অনুভব করছেন।
গ্র্যান্ড জুরি নথিতে এফবিআই এজেন্টদের দ্বারা নাবালিকা মেয়েদের সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়েছে। এক ১৪ বছর বয়সী মেয়ে এবং অন্যান্য নারী জানান যে, এপস্টেইন তাদেরকে যৌন কাজের জন্য ব্যবহার করতেন। আরেক নারী উল্লেখ করেছেন যে, ১৬ বছর বয়সে তাকে যৌন ম্যাসাজের জন্য নিয়োগ করা হয় এবং পরে তিনি আরও কিশোরী মেয়েদের সঙ্গে কাজ করতেন। এসব সাক্ষ্য নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, যদিও কিছু পৃষ্ঠা সম্পূর্ণভাবে কালো করে দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত নথির মোট পৃষ্ঠার মধ্যে প্রায় ৫৫০ পৃষ্ঠা সম্পূর্ণভাবে রেড্যাক্ট করা হয়েছে, আর কয়েকটি গ্র্যান্ড জুরি নথি পুরোপুরি অদৃশ্য। নথি প্রকাশের দায়িত্বে থাকা বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে, এখনও বহু নথি প্রকাশ বাকি রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সব নথি প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সদস্য চাক শুমার উল্লেখ করেছেন যে, নথি প্রকাশে দেরি গোপনীয়তা রক্ষা করে, যদিও ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রতিনিধিরা আদালতে আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন। আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের উপর আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন এবং নথি প্রকাশের দ্রুততা দাবি করছেন।
এপস্টেইন মামলায় গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, এবং তার সহায়তাকারী হিসেবে তার নথিগুলোতে বহু উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে নথিতে কেবল উপস্থিতি উল্লেখ আছে, কোনো সরাসরি অপরাধের অভিযোগ নেই।
বিচার বিভাগের মতে, রেড্যাকশন ও নথি মুছে ফেলা প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা গোপনীয়তা রক্ষার জন্য হতে পারে, তবে স্বচ্ছতা দাবিকারীরা এই বিষয়গুলোকে আইনগত লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে আরও নথি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে, যা এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েল সংক্রান্ত অপরাধের পূর্ণ চিত্র প্রকাশে সহায়তা করবে।
এই ধারাবাহিক কভারেজে পরবর্তী আদালত শুনানি, নথি প্রকাশের সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত পদক্ষেপের আপডেট প্রদান করা হবে।



