বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত সন্ধ্যায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পাশে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণকে কেন্দ্র করে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ দেশের প্রধান মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশের মূল কারণ ছিল প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে আক্রমণ, অগ্নিকাণ্ড এবং নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপর হেনস্থা করা। এই ঘটনাগুলো মিডিয়া স্বাধীনতার প্রতি হুমকি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর নিন্দা পেয়েছে।
সমাবেশের আয়োজন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব) যৌথভাবে করেছে। উভয় সংস্থা মিডিয়া সংস্থার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার লক্ষ্যে এই প্রতিবাদকে একতাবদ্ধ মঞ্চে রূপান্তরিত করেছে। সমাবেশের স্থান হিসেবে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের পার্শ্ববর্তী রাস্তা নির্বাচিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা মানববন্ধন গঠন করে।
প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, সাংবাদিক সমিতি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হন। তারা মিডিয়া আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে গণতন্ত্রের রক্ষার জন্য একসাথে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেন। সমাবেশের শেষে অংশগ্রহণকারীরা সোনারগাঁওয়ের পার্শ্ববর্তী রাস্তায় মানববন্ধন গঠন করে দৃশ্যমান ঐক্য প্রদর্শন করেন।
মির্জা ফখরুলের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজরে আসে, কারণ তিনি নিজে স্বীকার করেন যে তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন। তবুও তিনি বিশ্বাস ও হৃদয়ের টানে সমাবেশে অংশ নিতে বাধ্য বোধ করেন। তার বয়স সাতাত্তর বছর, এবং তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে কাজ করেছেন।
বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, আজকের বাংলাদেশ তার স্বপ্নের চিত্রের থেকে অনেক দূরে। তিনি বলেন, তিনি যে স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক দেশ কল্পনা করেছিলেন, তা এখন বাস্তবে রূপ পায়নি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি তার জীবনের সংগ্রামের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মির্জা ফখরুল আরও জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা এখন আবার হুমকির মুখে। তিনি এই আক্রমণকে শুধুমাত্র মিডিয়া নয়, পুরো গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের জুলাই যুদ্ধের উল্লেখ করে বলেন, ঐ যুদ্ধ ছিল মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, এবং আজ সেই সংগ্রামের সুরক্ষা আবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি সকল গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে একত্রিত হয়ে এই ‘অপশক্তি’কে রোধ করার আহ্বান জানান। কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নাম না তুলে, তিনি একাত্মতা ও সংহতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যারা অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে চায়, যারা সত্যিকারের স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেন, তাদের এখনই সক্রিয় হয়ে দাঁড়াতে হবে।
মির্জা ফখরুলের এই আহ্বান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তিনি একতাবদ্ধতা ও সংহতির মাধ্যমে মিডিয়া স্বাধীনতা রক্ষা এবং গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিগুলোকে পুনরুদ্ধার করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই ধরনের সমাবেশ ও আহ্বান ভবিষ্যতে মিডিয়া সংস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
প্রতিবাদ সমাবেশের পর, সংশ্লিষ্ট মিডিয়া সংস্থাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে এবং সরকারকে এই ধরনের আক্রমণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি সব গণতন্ত্রপ্রিয় গোষ্ঠী মির্জা ফখরুলের আহ্বান অনুসরণ করে ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে মিডিয়া স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক নীতি রক্ষায় একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে উঠতে পারে।



