দিল্লি থেকে আসা ভারতীয় উচ্চায়ুক্তি প্রণয় বর্মা আজ ঢাকা জামুনা ফিউচার পার্কের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (IVAC) পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি ভিসা সেবা কার্যক্রমের অবস্থা মূল্যায়ন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি বেশ কিছু আবেদনকারীর সঙ্গে কথা বলেন, যাদের অধিকাংশই চিকিৎসা ভিসা নিয়ে ভারতের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা গ্রহণের পরিকল্পনা করেন।
এই সফরটি গত সপ্তাহে কেন্দ্রের কার্যক্রম একদিনের জন্য বন্ধ হওয়ার পরের দিন অনুষ্ঠিত হয়, যখন ভারতীয় উচ্চায়ুক্তি “গুরুতর হুমকি” উল্লেখ করে বাংলাদেশে তার মিশন ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। বন্ধের সময় ভিসা সেবা সাময়িকভাবে থেমে থাকলেও, পুনরায় খোলার পর প্রভাবিত আবেদনকারীদের জন্য দ্রুত বিকল্প তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
উচ্চায়ুক্তি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ঢাকা, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী শহরে অবস্থিত IVAC গুলো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে, বিশেষত রোগীর চিকিৎসা ভ্রমণকে বিবেচনা করে চালু থাকবে, যদিও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল রয়ে গেছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের IVAC এখনও অস্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে, কারণ ১৮-১৯ ডিসেম্বর রাতে সহকারী উচ্চায়ুক্তি ভবনের প্রবেশদ্বারে একটি দল হিংসাত্মক হামলা চালায়, যেখানে পাথর নিক্ষেপ এবং গেট ভাঙার হুমকি দেয়া হয়।
এই ঘটনার ফলে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়। ঢাকা IVAC-এ উপস্থিত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নকল নথি, মধ্যস্থতাকারী ও টাউটদের দ্বারা সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা বাড়ছে, যা সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ এবং কৃত্রিম ট্রাফিক সৃষ্টি করে প্রকৃত আবেদনকারীদের সময়সূচি নষ্ট করে।
উচ্চায়ুক্তি এই বিষয়গুলোকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা যায় এবং ভিসা সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের ফলে অন্যান্য দেশের দূতাবাসগুলোও সুরক্ষা বাড়াচ্ছে; উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু মিশন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তবে মানবিক সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “চিকিৎসা ভিসা প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা রোগীর জীবন ও স্বাস্থ্যের সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাই নিরাপত্তা উদ্বেগের মাঝেও এই সেবা চালিয়ে যাওয়া কূটনৈতিক দায়িত্বের অংশ।”
অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা দেশের গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ নিরাপত্তা উদ্বেগের নামে নাগরিক অধিকার সীমাবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে, নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভিসা আবেদনকারীদের জন্য স্বচ্ছ ও দ্রুত সেবা প্রদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে, ভারতীয় উচ্চায়ুক্তি এবং বাংলাদেশি নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে, ভিসা সেবা কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা মানদণ্ড উন্নত করা এবং নকল নথি ও মধ্যস্থতাকারী কার্যক্রম দমন করার জন্য প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো সফল হলে, উভয় দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ও চিকিৎসা সেবার প্রবাহ স্বাভাবিকভাবে পুনরুদ্ধার হবে, এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।



