চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাত্রি চারটার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ২৭ জন অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধীনস্থ দলটি সীমান্ত এলাকায় গোপন অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করেছে।
অটককৃতদের মধ্যে আটজন পুরুষ, বারোজন নারী, পাঁচজন শিশু এবং দুইজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত। সবাই বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
বিজিবি সূত্র অনুযায়ী, সন্দেহভাজনরা পূর্বে বিভিন্ন সময়ে পাসপোর্টবিহীনভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গমন করেছিল। পরবর্তীতে কোনো বৈধ নথি ছাড়া আবার বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিজিবি তাদের বাধা দেয়।
বিজিবি ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল গোলাম কিবরিয়া জানান, আটককৃতদের পরিচয়, স্থায়ী ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বাংলাদেশি নাগরিকত্বের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক যাচাই শেষে, গ্রেপ্তারকৃতদের গৃহস্থালীর তথ্য (জিডি) সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনগত দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বর্ডার গার্ডের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অবৈধ পণ্য প্রবাহ রোধে টহল ও নজরদারি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। অতিরিক্ত পেট্রোলিং ইউনিট এবং নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
এই ধরনের অবৈধ পারাপার পূর্বে বহুবার ঘটেছে, যা উভয় দেশের নিরাপত্তা সংস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। বিজিবি জোর দিয়ে বলছে, ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনা রোধে সীমান্তে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং তথ্য শেয়ারিং বাড়ানো হবে।
অধিকাংশ গ্রেপ্তারকৃতের পরিবারকে জানানো হয়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
বিজিবি কর্তৃক গৃহীত এই পদক্ষেপটি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নীতি অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে, যা অবৈধ পারাপার ও মানব পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সীমান্তে নিয়মিত টহল, ড্রোন পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি কমানো হবে বলে কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে গ্রেপ্তারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখবে এবং দেশের সীমানা রক্ষা করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



