খুলনা শহরের সোনাদাঙ্গা মডেল থানা থেকে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) খুলনা শাখার প্রধান ও NCP শ্রমিক শক্তি কেন্দ্রীয় সংগঠক মোটালেব শিকদারকে আজ সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গুলিবিদ্ধ করা হয়। গুলির লক্ষ্য সরাসরি তার মাথা, এবং এক গুলি কানের এক পাশে প্রবেশ করে ত্বক ছেদ করে অন্য পাশে বেরিয়ে আসে।
গোলাগুলি শিকদারের মাথায় আঘাতের পরই তিনি দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্তে তার অবস্থা গুরুতর বলে নির্ধারিত হয়; তবে চিকিৎসা দলের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শিকদারকে স্থিতিশীল করা হয়েছে এবং তিনি এখনো বিপদের মধ্যে নেই। ডাক্তাররা উল্লেখ করেন, গুলির প্রবেশ পথ এবং ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা করা হয়েছে, ফলে শিকদারের জীবনরক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাচ্ছে।
সোনাদাঙ্গা মডেল থানার তদন্তকারী অফিসার অনিমেষ মন্ডল জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে গুলির দিক, প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্ট স্পষ্ট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গুলিবিদ্ধের পরপরই স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরা রেকর্ড, আশেপাশের সাক্ষীর বিবরণ এবং গুলির ক্যালিবার সংক্রান্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অধিক তদন্তে সন্দেহভাজন বা দায়ী ব্যক্তির নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি; তবে পুলিশ গুলিবিদ্ধের গাড়ি, সম্ভাব্য গুলি চালানোর অস্ত্র এবং সম্ভাব্য গ্যাং সংযোগের সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের ফলাফল জানাতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পূর্বে, ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় এক রাজনৈতিক প্রার্থী শারিফ ওসমান হাদি গুলি হানা পান। তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমান পরিবহন করা হয়। সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে ১৮ ডিসেম্বর রাতের দিকে শারিফ ওসমান হদি মারা যান, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে শোকের স্রোত তৈরি করেছে।
দুইটি গুলিবিদ্ধের ঘটনা উভয়ই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উভয় ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
এদিকে, সরকার সম্প্রতি খাদ্য পণ্যের বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত নতুন বিধি প্রণয়ন করেছে। এই বিধি অনুসারে, কোনো খাবার কোম্পানি ডাক্তার, পুষ্টিবিদ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে ব্যবহার করে পণ্যের প্রচার করতে পারবে না, যাতে ভোক্তাদের বিভ্রান্তি রোধ করা যায়।
নতুন বিধি অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনদাতারা সরাসরি বৈজ্ঞানিক তথ্য বা স্বাস্থ্যের সুবিধা উল্লেখ করতে পারবে, তবে তা কোনো স্বীকৃত স্বাস্থ্য পেশাদারের অনুমোদন ছাড়া করা যাবে না। লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি, যার মধ্যে জরিমানা ও বিজ্ঞাপন বন্ধের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত, আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
গুলিবিদ্ধের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালু করে, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে, যাতে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
এই দুইটি গুলিবিদ্ধের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন নীতিমালার প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর জনমত গঠিত হচ্ছে।



