ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এ আজ সকালেই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাক্তন বেসরকারি শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় অভিযুক্তকে একই দিনে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং মামলার মূল বিষয়গুলো আদালতে উপস্থাপিত হয়।
প্রসিকিউশন দল ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিলের পর আজকের শুনানিতে মামলার মূল দিকগুলো পুনরায় উপস্থাপন করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই‑আগস্ট মাসে ছাত্র‑জনতার বৃহৎ প্রতিবাদ চলাকালীন সময়ে আনিসুল ও সালমান ফোনে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।
সেই ফোনালাপে উভয় পক্ষের এক কথোপকথনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কারফিউ (কর্তব্যবিমুখ) সময়কালে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়া’ প্রয়োজন। এই বক্তব্যের পর দেশজুড়ে, ঢাসহ বিভিন্ন এলাকায়, ছাত্র‑জনতার ওপর গুলিবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়।
প্রসিকিউশন দল দাবি করে যে, উক্ত ফোনালাপের বিষয়বস্তু সরাসরি গুলিবিদ্ধের জন্য উসকানী হিসেবে কাজ করেছে। তাই, অভিযোগে এই কথাগুলোকে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি প্রেরণা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গনভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্যবসায়িক নেতাদের বৈঠকের আয়োজনের মাধ্যমে একই ধরনের উসকানী দেওয়া হয়েছিল। এই বৈঠককে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও সমর্থনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
মামলাটিতে মোট পাঁচটি নির্দিষ্ট অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; প্রথমটি হল গুলিবিদ্ধের সরাসরি উসকানী, দ্বিতীয়টি হল গনভবনে বৈঠক আয়োজন, তৃতীয়টি হল কারফিউ‑সময় নির্দেশনা, চতুর্থটি হল ছাত্র‑জনতার ওপর সহিংসতা উস্কানো, পঞ্চমটি হল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা লঙ্ঘন।
ট্রাইব্যুনাল‑১ অভিযোগ গৃহীত হওয়ার পর, একই দিনে ট্রাইব্যুনাল‑২-এ চানখারপুলে ঘটিত ছয়জনের হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত যুক্তিতর্কের শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই শুনানিতে সংশ্লিষ্ট মামলার প্রমাণ ও সাক্ষ্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই দুই ট্রাইব্যুনালিক শুনানি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, প্রাক্তন সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে, আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
অভিযুক্তদের আইনগত প্রতিনিধিরা আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে এবং পরবর্তী শুনানিতে প্রমাণের বিশদ বিশ্লেষণ করা হবে। আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে, অভিযোগ গঠন বা প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।
এই মামলার ফলাফল দেশের মানবাধিকার রেকর্ড এবং রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তা দেশের আইনি কাঠামোর শক্তি ও স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে, যদি রায় অভিযুক্তদের মুক্তি দেয়, তবে তা শিকারের পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হতে পারে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিরোধের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের শুনানি দেশের আইনি ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে। উভয় ট্রাইব্যুনালিক প্রক্রিয়া কীভাবে অগ্রসর হবে এবং কী ধরনের রায় দেওয়া হবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটের ওপর প্রভাব ফেলবে।
প্রসিকিউশন ও রক্ষা পক্ষের যুক্তি শোনার পর, ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করবে এবং মামলার চূড়ান্ত রায় জানাবে। এই রায় দেশের আইনি ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার মানদণ্ড নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



