ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সোমবার দুপুরে একটি ব্রিফিংয়ে জানায়, গত সপ্তাহে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসসহ দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত ১৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হামলা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতের দিকে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো ও কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে ডেইলি স্টার অফিসে। সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করে ভাঙচুর, লুটপাট করে এবং পরে অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে উভয় অফিসকে পুড়িয়ে দেয়।
সেই একই রাত দানমন্ডিতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট-সংস্কৃতি ভবনে আক্রমণ করা হয়। গৃহে প্রবেশকারীরা জানালা ভেঙে, সম্পদ নষ্ট করে এবং অগ্নিকাণ্ড ঘটায়, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
পরের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার রাতে, ঢাকার তোপখানা রোডে অবস্থিত উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সংগঠনের একাংশের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে দাবি করেন, আগুনটি পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছিল।
হামলার পরপরই থানা পুলিশ ১৩ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। অতিরিক্তভাবে, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট তিনজনকে এবং গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একজনকে গ্রেফতার করে, ফলে মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা ১৭ এ পৌঁছায়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় ও গ্রেফতার স্থান সংক্রান্ত বিশদ তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো মামলার সঙ্গে যুক্ত সকল প্রমাণ সংগ্রহে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
হামলার পর, তেজগাঁও থানা ১ ঘণ্টা আগে, রাত্রি ১২টা ১০ মিনিটে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের অধীনে একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলায় অজানা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটি তেজগাঁও থানার অধীনে দায়ের হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট আদালতে পরবর্তী শুনানির তারিখ শীঘ্রই নির্ধারিত হবে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হতে পারে।
সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচিত এই ঘটনার তদন্তে ডিএমপি, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং গোয়েন্দা পুলিশ একত্রে কাজ করছে। তদন্তকর্তারা উল্লেখ করেন, হামলাগুলো সমন্বিত পরিকল্পনা ও সমন্বয়পূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসের পাশাপাশি, ছায়ানট-সংস্কৃতি ভবন ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, ফলে হামলা সমাজে বিস্তৃত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অধিক তদন্তের সঙ্গে সঙ্গে, পুলিশ জনসাধারণকে সতর্ক করে যে, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা অজানা ব্যক্তির উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করলে তদন্তে সহায়তা করা যাবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন, বিশেষ করে মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের।
এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করবে।



