জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজা থেকে আজ বিকাল ৪টায় ‘Vote-er Gari’ (ভোটের গাড়ি) নামের একটি ভোটার সচেতনতা ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হবে, যা ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের পূর্বে ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করা, যাতে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং নির্বাচনের বৈধতা শক্তিশালী হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটের গতি, অর্থ ও দায়িত্ব সম্পর্কে সরল ও প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রদান করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস ভিডিও বার্তা দিয়ে উপস্থিত থাকবেন। তিনি ৪:০০ টায় সরাসরি উপস্থিত না হয়ে, সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করবেন। তার বার্তায় ভোটারদের ভোটের গাড়ি চালিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানানো হবে।
‘Vote-er Gari’ ক্যাম্পেইনের স্লোগান “ভোটের গাড়ি চালাও, দেশের গতি বাড়াও” হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। এই স্লোগানটি ভোটারকে ভোটের প্রক্রিয়াকে এক ধরনের যাত্রা হিসেবে দেখাতে চায়, যেখানে প্রত্যেক ভোটই দেশের অগ্রগতির ইঞ্জিনের অংশ। ক্যাম্পেইনের ভিজ্যুয়াল উপকরণে গাড়ি, রাস্তায় চলমান ট্রাফিক এবং ভোটের পাতা চিত্রিত করা হয়েছে, যা ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার পাশাপাশি বার্তাটিকে সহজে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা সায়েদা রিজওয়ানা হাসান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকি এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারি আখতার আহমেদ উপস্থিত থাকবেন। তারা ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা, প্রচার মাধ্যম এবং কার্যক্রমের সময়সূচি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করবেন। উপস্থিত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে ক্যাম্পেইনটি টেলিভিশন, রেডিও, সামাজিক মিডিয়া এবং সড়ক বিজ্ঞাপনসহ বহু চ্যানেলে সমন্বিতভাবে চালু হবে।
সরকারি হ্যান্ডআউট অনুযায়ী, ক্যাম্পেইনটি আজ বিকাল থেকে শুরু হয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হবে। টেলিভিশন ও রেডিওতে বিশেষ প্রোগ্রাম, ইউটিউব ও ফেসবুকে সংক্ষিপ্ত ভিডিও, এবং সড়ক বিজ্ঞাপনে গাড়ি চালিয়ে ভোটের বার্তা তুলে ধরা হবে। এছাড়া, নির্বাচনী এলাকার নিকটবর্তী স্কুল ও কলেজে তথ্যবহুল সেশনও পরিচালিত হবে, যাতে তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য গোষ্ঠী প্রধানত প্রথমবারের ভোটার, তরুণ ভোটার এবং গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী নাগরিক। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভোটের প্রক্রিয়া, ভোটার নিবন্ধন এবং ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে ভুল ধারণা বিদ্যমান, যা দূর করার জন্য সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা ও উদাহরণ প্রদান করা হবে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে ভোটার টার্নআউটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা নির্বাচনের বৈধতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তি বৃদ্ধি করবে।
১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম দুটোই দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনে পার্টি ও প্রার্থীদের পারফরম্যান্স, নীতি ও প্রতিশ্রুতি নির্ধারিত হবে, আর রেফারেন্ডামে নির্দিষ্ট নীতি সংক্রান্ত প্রশ্নের ওপর ভোটারদের মতামত সংগ্রহ করা হবে। তাই ভোটার অংশগ্রহণের হার বাড়ানোকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যাতে ফলাফলকে সর্বোচ্চ বৈধতা প্রদান করা যায়।
অতীতে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সচেতনতা ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে, তবে ‘Vote-er Gari’ ক্যাম্পেইনকে তার সৃজনশীল ভিজ্যুয়াল থিম ও বহুমাধ্যমিক কৌশল দিয়ে আলাদা করা হয়েছে। পূর্বের ক্যাম্পেইনগুলো মূলত পোস্টার ও রেডিও বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে এই ক্যাম্পেইনটি ডিজিটাল মিডিয়া, মোবাইল অ্যাপ এবং সড়ক বিজ্ঞাপনকে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করে বিস্তৃত নাগরিকগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল ক্যাম্পেইনকে ভোটার সচেতনতা বাড়ানোর ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে ভোটারদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা দাবি করেন যে কোনো ধরনের প্রচারণা ভোটারকে নির্দিষ্ট দিকের দিকে প্রভাবিত না করে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা উচিত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ক্যাম্পেইনের বিষয়বস্তুতে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ক্যাম্পেইনের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে ভোটার নিবন্ধন কেন্দ্রের ঠিকানা, ভোটের সময়সূচি, ভোটদান পদ্ধতি এবং ভোটার সনদ যাচাই করার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব তথ্য সহজে বোধগম্য গ্রাফিক্স ও অ্যানিমেশন দিয়ে উপস্থাপন করা হবে, যাতে ভোটাররা ভোটের দিন কোনো ধাপ মিস না করে। এছাড়া, ভোটারদের জন্য হটলাইন ও অনলাইন চ্যাট সাপোর্টের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা যেকোনো প্রশ্নের দ্রুত উত্তর পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ব্যাপক সচেতনতা ক্যাম্পেইন চালিয়ে গেলে ভোটার টার্নআউটের



