19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগ্লোবাল স্বর্ণ ও রুপা দামে রেকর্ড উচ্চতা, বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ

গ্লোবাল স্বর্ণ ও রুপা দামে রেকর্ড উচ্চতা, বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ

সোমবার গ্লোবাল স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম একদিনে প্রায় ১.২ শতাংশ বাড়ে এবং $4,391.92 প্রতি আউন্সে পৌঁছে নতুন সর্বোচ্চ স্তরে। একই দিনে রুপার দামও $69.23 প্রতি আউন্সে বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ভাঙে। এই উত্থান মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা এবং নিরাপদ সম্পদে চাহিদা বাড়ার ফলে ঘটেছে, যা বিশ্বব্যাপী বাজারকে প্রভাবিত করেছে।

আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের একদিনের বৃদ্ধি পূর্বের শীর্ষকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতা অর্জন করে। রুপা, যা স্বর্ণের তুলনায় সাধারণত পিছিয়ে থাকে, তাও $69.23 প্রতি আউন্সে পৌঁছে তার পূর্বের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে। উভয় ধাতুই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সমাপনী মূল্য দেখেছে।

বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদ হ্রাসের ইঙ্গিতকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সুদের হার কমলে অ-সুদযুক্ত সম্পদের সুযোগমূল্য হ্রাস পায়, ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদে আকৃষ্ট হন।

মুদ্রা নীতি ছাড়াও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। বিভিন্ন অঞ্চলের অস্থিরতা বাজারকে কম ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে রূপান্তরিত করেছে, যা স্বর্ণ ও রুপার দামের দ্রুত বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করেছে।

বছরের শুরু থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়েছে, আর রুপার দাম ১৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বর্ণের শতাংশ বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। এই উত্থান বছরের মোট পারফরম্যান্সকে ঐতিহাসিক মাত্রায় নিয়ে গেছে।

বিশেষ করে রুপার চমকপ্রদ বৃদ্ধি নজরে এসেছে, কারণ এটি স্বর্ণের চেয়ে বেশি শতাংশে বেড়েছে। এই পার্থক্য সরবরাহ-চাহিদা কাঠামো এবং রুপার শিল্পিক ব্যবহার, যেমন ইলেকট্রনিক্স ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে, বৃদ্ধির ফলে ঘটেছে।

গ্লোবাল আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে ডিসেম্বর মাসে ঐতিহ্যগতভাবে স্বর্ণ ও রুপা উভয়েরই ইতিবাচক রিটার্ন দেখা যায়। বছরের শেষের পোর্টফোলিও পুনর্ব্যালেন্সিং এবং ক্রয় চাপে মৌসুমি উপাদানগুলো এই ধাতুগুলোর পক্ষে কাজ করে।

তবে একই বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে মাসের শেষের দিকে লেনদেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। লেনদেনের হ্রাসের ফলে লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা দামের আরও উত্থানকে সীমাবদ্ধ করতে পারে।

বাংলাদেশে এই আন্তর্জাতিক দামের উত্থান স্থানীয় স্বর্ণ বাজারে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১০ গ্রাম প্রতি ২,১৮,১১৭ টাকায় পৌঁছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তর।

খুচরা বিক্রেতারা গ্রাহকদের স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা দোলনের বিরুদ্ধে সুরক্ষার উপায় হিসেবে দেখার ফলে ক্রয়ের আগ্রহ বাড়তে দেখেছেন। এই ঐতিহাসিক দামের স্তর আগামী সপ্তাহে ক্রয় সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

বাজারের অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক তথ্য, বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন এবং ফেডারেল রিজার্ভের ঘোষণাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, কারণ সেগুলো সুদের হার প্রত্যাশাকে সরাসরি প্রভাবিত করে এবং স্বর্ণ-রুপা মূল্যের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে।

যদিও বর্তমান পরিবেশে মূল্যবান ধাতুর বাজার শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছে, বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে মুদ্রা নীতির হঠাৎ পরিবর্তন বা ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির হ্রাস উত্থানকে উল্টে দিতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচ্চ রিটার্নের আকর্ষণ ও সম্ভাব্য অস্থিরতার মধ্যে সমতা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments