যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দেরি না করে প্রকাশিত এক ফাইলে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের নাম উঠে এসেছে, যা দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। বিল ক্লিনটনের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন এই তথ্যকে ব্যবহার করে ক্লিনটনকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসও স্বীকার করেছেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্লিনটন সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রচার করা হচ্ছে।
ফাইলের বিশদে দেখা যায় যে, এপস্টেইন ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে অন্তত সতেরবার উপস্থিত ছিলেন, যা প্রেসিডেন্সির শুরুর বছরগুলোতে ঘটেছে। প্রেসিডেন্সি শেষ করার পর, ২০০১ সালে ক্লিনটন এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করে এশিয়া ও আফ্রিকায় ভ্রমণ করেন, যা তিনি ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ক্লিনটন এবং তার প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন যে, ২০০৫ সালের পর থেকে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি এবং এপস্টেইনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপে কখনোই গিয়েছেন না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে এপস্টেইন ও ডেমোক্র্যাট পার্টির মধ্যে কোনো সমঝোতা বা সহযোগিতা রয়েছে বলে দাবি করছেন। গত মাসে তিনি বিচার বিভাগ ও এফবিআইকে আহ্বান জানান, যাতে এপস্টেইন এবং বিল ক্লিনটনের সম্পর্কের ওপর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হয়। এই দাবিগুলি রাজনৈতিক বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে, যেখানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষই একে অপরের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে।
হাউস ওভারসাইট কমিটি এই বিষয়কে নিয়ে বিশেষ শুনানি নির্ধারণ করেছে, যেখানে বিল ক্লিনটন এবং তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে। প্রথমে নির্ধারিত তারিখগুলো পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং নতুন তারিখ হিসেবে ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার উল্লেখ করেছেন যে, নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না হলে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নিতে পারে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক পরিণতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের প্রশাসন এপস্টেইন সংক্রান্ত তথ্যকে ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াতে চায়, আর ডেমোক্রাটরা এই প্রচেষ্টাকে রাজনৈতিক চালচলন হিসেবে দেখছে। বিল ক্লিনটনের পক্ষ থেকে পুনরায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো অবৈধ বা অনৈতিক সম্পর্ক রাখেননি, এবং তার জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইচ্ছুক।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, হাউস ওভারসাইট কমিটির শুনানির ফলাফল এবং সম্ভাব্য আদালতীয় পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। যদি ক্লিনটন দম্পতি সময়মতো উপস্থিত হন, তবে তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারবেন এবং অতীতের যেকোনো অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। অন্যদিকে, যদি তারা অনুপস্থিত থাকেন, তবে তা অবমাননা অভিযোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে আরও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এপস্টেইনের ফাইলের প্রকাশ এবং তার সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বিরোধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। এই বিষয়টি কীভাবে শেষ হবে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের আইনগত বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে তা অবশ্যই পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।



