আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের উদ্বোধনী ম্যাচে হোস্ট দেশ মরোক্কো রাবাতের প্রিন্স মুলে আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে কমোরোসের মুখোমুখি হয়ে ২-০ স্কোরে জয় নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি রবিবার অনুষ্ঠিত হয়, আর বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে মাঠের পৃষ্ঠে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ যোগ করলেও উভয় দলই উচ্চমাত্রার উদ্যম নিয়ে খেলায় প্রবেশ করে।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে মরোক্কো ৯৭ স্থান উপরে থাকা সত্ত্বেও, দলটি শুরুতে কিছুটা অস্থিরতা দেখায়। বৃষ্টির কারণে মাঠের গ্রিপ নরম হয়ে যায়, ফলে পাসের গতি ধীর হয় এবং শুটিংয়ের সুযোগ সীমিত থাকে। তবুও মরোক্কো অধিকাংশ সময়ে বলের দখল বজায় রাখে এবং মাঝখানে ধারাবাহিক আক্রমণ চালায়।
প্রথমার্ধে মরোক্কোর আক্রমণাত্মক চাপের পরেও গোলের সুযোগ না পেয়ে স্কোর শূন্যে থাকে। ১১তম মিনিটে ইয়াদ মোহাম্মদ কমোরোসের ডিফেন্ডারকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়া হয়, তবে সৌফিয়ান রাহিমি শটটি গোলকিপার ইয়ানিক প্যান্ডোর হাঁটুর দিকে আঘাত করে সরাসরি বাতাসে উড়ে যায়। রাহিমির এই শটের পরে মরোক্কো আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করে, তবে গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে স্কোরকে রক্ষা করেন। প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত স্কোর ০-০ থেকেই যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫তম মিনিটে মরোক্কোর নৌসসাইর মাজারুই ডিফেন্ডারদের চাপ থেকে বলটি রক্ষা করে, তারপর তা সমান দূরত্বে ব্রাহিম দিয়াজের দিকে পাঠায়। দিয়াজের সাইডফুট শটটি সোজা জালে গিয়ে প্রথম গোলের রেকর্ড গড়ে, যা দলকে ১-০ অগ্রগতিতে নিয়ে যায়। এই গোলের পর মরোক্কোর আক্রমণ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যদিও কমোরোসের ডিফেন্স এখনও দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করে।
মার্চের ৭৪তম মিনিটে পরিবর্তন খেলায় আয়ুব এল কাবি মাঠে নামেন। মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই তিনি চমকপ্রদ সাইক্লিক কিক দিয়ে দ্বিতীয় গোল করেন। বলটি তার পা থেকে উঁচুতে উঠে গিয়ে জালে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়, ফলে স্কোর ২-০ হয়ে যায় এবং মরোক্কোর জয় নিশ্চিত হয়। এই গোলের পরে ম্যাচের গতি সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়, এবং কমোরোসের আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা কমে যায়।
কমোরোসের রাফিকি সাইদ ৪ মিনিট পরই একবার গোলের সুযোগ পায়, তবে তিনি বলটি সরাসরি গলকিপার ইয়াসিন বোনুতে আঘাত করে স্কোরে পরিবর্তন ঘটাতে পারেন না। শেষের দিকে গলকিপার ইয়ানিক প্যান্ডোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেভ দেখা যায়, যদিও তার দল ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং রক্ষণে ত্রুটি দেখা দেয়। মরোক্কোর গলকিপার বোনুও শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি শটকে রোধ করে, তবে প্যান্ডোর পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য।
ম্যাচের পর মরোক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই বলেন, “প্রথমার্ধে কঠিন পরিস্থিতি ছিল, তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালভাবে খেলেছি এবং ফলাফল পেয়েছি”। এই জয়ের মাধ্যমে মরোক্কোর জাতীয় দল ধারাবাহিক জয়ের সংখ্যা ১৯‑এ পৌঁছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রেকর্ড ভাঙার সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। কোচের মন্তব্যে দলকে আত্মবিশ্বাসী এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
মরোক্কো এখন পরের রাউন্ডে তার পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে জয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং টুর্নামেন্টের শিরোপা তাড়া চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে কমোরোসের জন্য এই পরাজয় একটি কঠিন সূচনা, তবে তারা ভবিষ্যতে উন্নতির সম্ভাবনা রাখে এবং পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করার সুযোগ পাবে।



