দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আইএলটি২০ ম্যাচে শাকিব আল হসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান নিজেদের দলকে জয়ী করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শাকিবের অল-রাউন্ড পারফরম্যান্স এমআই এমিরেটসকে ডেজার্ট ভাইপার্সের ওপর চার উইকেটের পার্থক্যে জয় নিশ্চিত করে, আর মুস্তাফিজুরের তীক্ষ্ণ বলদানা দুবাই ক্যাপিটালসকে গাল্ফ জায়ান্টসের লক্ষ্য অতিক্রমে সহায়তা করে।
শাকিবের তৃতীয় ম্যাচে তিনি সেভেনথ ওভারে প্রবেশ করে শেষ বলেই প্রথম উইকেট নেন। পরের ওভারে আরেকটি উইকেটের মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের চাপ বাড়িয়ে দেন। মোট চার ওভার বোলিংয়ে তিনি মাত্র চৌদ্দ রান ছাড়াই দুইটি উইকেট নেন, কোনো বাউন্ডারি না দিয়ে বারোটি ডট বল দেন। নবম ওভারে সাম কার্রানের ক্যাচটি তোলার মাধ্যমে শাকিবের ফিল্ডিংও দলকে রক্ষা করে। একাদশ ও পনেরোতম ওভারে তিনি প্রত্যেকটি ওভারে মাত্র তিনটি রানই দেন, ফলে ডেজার্ট ভাইপার্সের স্কোর ১২৪ রানে সাত উইকেটের সঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকে।
চেজে এমআই এমিরেটস ছয় উইকেট হারিয়ে থাকে, তবে শাকিবের অবিচল ১৭ রান দিয়ে দলটি লক্ষ্য অর্জন করে এবং শেষের ১৫টি বলের মধ্যে জয় নিশ্চিত করে। শাকিবের অচল অবস্থান ও সঠিক শটের সংমিশ্রণ ম্যাচের সমাপ্তি পর্যন্ত দলকে স্থিতিশীল রাখে।
অন্যদিকে দুবাই ক্যাপিটালসের মুস্তাফিজুর রহমানের পারফরম্যান্সও তেমনি চমকপ্রদ ছিল। প্রথম ওভারেই তিনি তেরো রান দিলেন, তবে চৌদ্দতম ওভারে তিনি মাত্র চার বলের মধ্যে তিনটি উইকেট নেন। জেমস ভিন্সকে ৩৬ রানে, আজমাতুল্লাহ ওমরজাইকে ৪৩ রানে এবং শন ডিকসনকে দ্রুত আউট করে গাল্ফ জায়ান্টসের গতি হ্রাস করেন।
গাল্ফ জায়ান্টসের স্কোর ১৫৬ রানে আটকে যায়, এবং মুস্তাফিজুরের শেষের অষ্টাদশ ওভারে তিনি এগারো রান ছেড়ে দেন, ফলে তার বোলিং ফিগার ৩.৫ ওভার, ৩৪ রান, ৩ উইকেট হয়। এই পারফরম্যান্সের জন্য তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
দুবাই ক্যাপিটালস লক্ষ্য রানে পৌঁছাতে ছয় উইকেটের সঙ্গে চারটি বল বাকি রেখে সফল হয়। মুস্তাফিজুরের এই জয় তার টুর্নামেন্টের মোট উইকেট সংখ্যা সাতটি ম্যাচে চৌদ্দে বাড়িয়ে দেয়, যা তার ধারাবাহিক সাফল্যের সূচক।
দুইটি ম্যাচে উভয় খেলোয়াড়ের অবদান দলকে জয়ী করতে অপরিহার্য ছিল। শাকিবের সুনির্দিষ্ট বোলিং ও স্থিতিশীল ব্যাটিং, এবং মুস্তাফিজুরের তীব্র স্পিন ও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেওয়া দুবাই ও দুবাইয়ের ভিন্ন ভিন্ন দলকে টুর্নামেন্টে অগ্রগতি করতে সাহায্য করেছে।
দলগুলো এখন টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব বাড়বে। শাকিব ও মুস্তাফিজুরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কোচিং স্টাফগুলো তাদের ভূমিকা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চাপ মোকাবিলায়।
এই ম্যাচগুলোতে দেখা গেল কিভাবে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও কৌশল দলকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়। শাকিবের বোলিংয়ে কোনো বাউন্ডারি না থাকা এবং মুস্তাফিজুরের দ্রুত উইকেট নেওয়া দুবাইয়ের ভিন্ন ভিন্ন শর্তে সফলতা এনে দেয়।
আইএলটি২০ সিরিজের এই পর্যায়ে দলগুলোকে জয় নিশ্চিত করতে কেবল একক পারফরম্যান্স নয়, সমন্বিত দলগত কাজের প্রয়োজন। শাকিবের অচল ১৭ রান এবং মুস্তাফিজুরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দুবাইয়ের জয়কে দৃঢ় করে তুলেছে।
দলগুলো এখন পরবর্তী ম্যাচের দিকে নজর দিচ্ছে, যেখানে শাকিব ও মুস্তাফিজুরের মতো মূল খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতা টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর চাবিকাঠি হবে।



