সরকারের নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ওষুধ প্রেসক্রাইব করা বা নিবন্ধনবিহীনভাবে চিকিৎসা চালানোর জন্য ডাক্তারদের ওপর আর জেল শাস্তি আরোপ করা হবে না। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) সংশোধনী আইন ২০২৫-এ এই পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ড্রাফ্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে নিষিদ্ধ ওষুধ প্রেসক্রাইব করলে সর্বোচ্চ তিন বছর জেল বা এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই হতে পারে। নতুন বিধান অনুসারে, জেল শাস্তি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া, নিবন্ধনবিহীনভাবে চিকিৎসা করা ডাক্তারদের জন্য শাস্তি তিন বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করা হবে। এই পরিবর্তনটি বিদ্যমান BMDC আইন ২০১০-কে পরিবর্তন করে নতুন ড্রাফ্টের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।
ড্রাফ্টে নতুন “মেডিক্যাল ট্রাইবুনাল” গঠন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ট্রাইবুনালগুলো চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত এবং বিশেষায়িত বিচার প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাইবুনালগুলোকে বিদ্যমান আইনগত কাঠামোর পরিবর্তে নতুন বিধান অনুসারে পরিচালিত করা হবে।
BMDC-র শিরোনাম ব্যবহারের নিয়মও ড্রাফ্টে বজায় রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র MBBS (বিএমএস) ও BDS (বিএডিএস) ডিগ্রিধারী ব্যক্তিরা “ডক্টর” শিরোনাম ব্যবহার করতে পারবেন। এই শর্তটি বর্তমান আইন অনুযায়ীই রয়ে গেছে।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত BMDC, দেশের ডাক্তার, দন্তচিকিৎসক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের নিবন্ধন, লাইসেন্স নবায়ন, শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষাক্রম নির্ধারণ এবং সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের স্বীকৃতি প্রদানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে।
ড্রাফ্টটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল এডুকেশন ও ফ্যামিলি প্ল্যানিং বিভাগ প্রস্তুত করে গত সপ্তাহে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এতে জনসাধারণের মতামত সংগ্রহের জন্য মন্তব্যের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিভাগের উপ-সচিব মোল্লিকা খাতুনের মতে, বর্তমান ১৫ বছর পুরনো আইনটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে যথাযথভাবে কভার করে না, তাই নতুন ড্রাফ্টে সেই ফাঁকগুলো পূরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহের পরই চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা নতুন মেডিক্যাল ট্রাইবুনাল গঠনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি পেশাগত অনিয়মের দ্রুত সমাধান দিতে পারে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ জেল শাস্তি বাদ দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ কঠোর শাস্তি ছাড়া পুনরায় লঙ্ঘনের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
ড্রাফ্টে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল, নিষিদ্ধ ওষুধের প্রেসক্রিপশনের জন্য জরিমানা বাড়িয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি পূর্বের এক লক্ষ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, যা শাস্তির প্রভাব বাড়ানোর উদ্দেশ্য বহন করে।
ড্রাফ্টের অন্যান্য ধারা এখনও আলোচনা ও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। সরকার জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহের পর সংশোধনী আইনকে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে।
এই পরিবর্তনগুলো স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়ন এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আইনটি কী রকম হবে এবং কী শর্তে কার্যকর হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।



