বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, মাত্র অটারো বছর বয়সে ইতালির ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে প্রশংসা পাচ্ছেন। স্প্যানিশ মিডিয়া জানিয়েছে, তার দ্রুত অগ্রগতি এবং মাঠের পারফরম্যান্স তাকে মেসি ও রোনালদোর সমতুল্য সম্ভাবনা দেয়া হয়েছে।
ইয়ামালের প্রেমের গল্পটি সিনেমার মতো শুরু হয়। জুলাই মাসে, তার ১৮তম জন্মদিনে আর্জেন্টিনা থেকে নিকি নামে এক তরুণী বার্সেলোনায় উড়ে এসে তার সঙ্গে দেখা করে। এরপর থেকে নিকি প্রায়ই অলিম্পিক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতেন, যেখানে ইয়ামাল চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে বলকে জালে আটকে দিয়ে একটি স্মরণীয় “ফ্লাইং কিস” করেন। ভক্তরা এই মুহূর্তটি নিকির জন্যই ছিল বলে অনুমান করলেও, দুজনের সম্পর্কের সূচনা তা নিশ্চিত করে।
অক্টোবরের দিকে যখন আকাশে মেঘ জমে যায়, স্প্যানিশ ট্যাবলয়েডগুলো ইয়ামালকে মিলানে অন্য কোনো পরিচিতির সঙ্গে দেখা করার খবর ছড়িয়ে দেয়। ইতালিয়ান ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে তার নাম যুক্ত হওয়ায় গুজব বাড়ে। তবে ইয়ামাল টেলিভিশনে এসে স্পষ্ট করে বলেন, তার এবং নিকির বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, এবং এর পেছনে কোনো তৃতীয় ব্যক্তি নেই। তিনি বলেন, বিচ্ছেদের পরই তিনি একা মিলানে গিয়েছিলেন, কোনো গোপন মিলন নয়।
ইয়ামালের এই ব্যক্তিগত নাটকের মাঝেও, সাবেক পর্তুগিজ উইঙ্গার পাউলো ফুত্র তার ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন। ফুত্রের মতে, ইয়ামালকে বিশ্বসেরা হতে হলে এক স্থায়ী সঙ্গী দরকার। তিনি বলেন, “একজন দায়িত্বশীল পার্টনার থাকলে খেলোয়াড়ের মনোভাব ও পেশাদারিত্বে বড় পরিবর্তন আসে।”
ফুত্র নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, যখন তার সন্তানদের মায়ের সঙ্গে পরিচয় হয়, তখন থেকেই তিনি সম্পূর্ণ ফুটবলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তিনি যুক্তি দেন, পারিবারিক দায়িত্বের বোধ আড্ডা ও অপ্রয়োজনীয় সময় কাটানো কমিয়ে দেয়, ফলে ড্রেসিং রুমে তার গুরুত্ব বাড়ে।
ফুত্রের মতে, যদি একজন খেলোয়াড়ের হৃদয়ে কোনো স্থায়ী সঙ্গী থাকে, তবে মাঠের বাইরে মানসিক অশান্তি কমে যায়। তিনি বিশ্বাস করেন, এই ধরনের মানসিক স্থিতিশীলতা খেলোয়াড়কে দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ইয়ামাল এখনো ১৮ বছর বয়সী হলেও, তার ক্যারিয়ার ইতিমধ্যে বহু বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎকে নির্দেশ করে। তার দ্রুত অগ্রগতি, টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিমধ্যে অর্জিত সাফল্য তাকে স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন রাজপুত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ফুত্রের পরামর্শের পরেও, ইয়ামাল কীভাবে তার ব্যক্তিগত জীবনকে সমন্বয় করবেন এবং মাঠে তার সাফল্যকে ধারাবাহিক রাখবেন, তা সময়ই প্রকাশ করবে। তার ভবিষ্যৎ গতি, দলীয় পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলো একসাথে ফুটবলের জগতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।



