বিন্দু (আফসান আরা বিন্দু) সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশন ও ৯৩.৬ এফএমের যৌথভাবে আয়োজন করা “বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে” পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। তিনি নিজের অভিনয়জীবন, দশ বছরের দীর্ঘ বিরতি এবং আরেফিন শুভরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলেন।
বিন্দু ও আরেফিন শুভরের জুটি ছোটবেলা থেকেই টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দর্শকের প্রিয় হয়ে উঠেছে। একাধিক নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করার ফলে তাদের পারস্পরিক সমন্বয় ও স্ক্রিনের রসায়ন দর্শকদের কাছে আলাদা স্বীকৃতি পায়। এই পেশাগত সমন্বয়কে কেন্দ্র করে দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জনও মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
২০১৪ সালের পর থেকে বিন্দু হঠাৎ করে পর্দা ও সামাজিক মিডিয়া থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। দশ বছর পর্যন্ত তিনি কোনো নাটক, সিরিয়াল বা পাবলিক পোস্টে অংশ নেননি, ফলে তার উপস্থিতি দর্শকের কাছে অদূরবর্তী হয়ে থাকে। এই দীর্ঘ বিরতির কারণ তিনি নিজে প্রকাশ না করলেও, কাজের বাইরে কোনো প্রকাশ্য কার্যকলাপের অভাব স্পষ্ট ছিল।
২০২৩ সালে তিনি “উনিশ২০” শিরোনামের একটি ওয়েব‑ফিল্মে আরেফিন শুভরের সঙ্গে পুনরায় জুটি বাঁধেন। এই প্রকল্পটি অনলাইন দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসা পায় এবং দুজনের স্ক্রিনের সমন্বয়কে পুনরায় প্রমাণ করে। তবে ফিল্মের পর আবারও তিনি মিডিয়ায় নীরবতা বজায় রাখেন, যা ভক্তদের মধ্যে নতুন প্রশ্ন তুলেছিল।
পডকাস্টে বিন্দু আরেফিনের সঙ্গে কাজের রসায়নকে “খুবই ভালো” বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দুজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া এই সমন্বয়কে সম্ভব করেছে এবং একসঙ্গে কাজ করা অন্যান্য সহকর্মীরাও সহযোগিতামূলক ছিলেন। এই মন্তব্যগুলো দর্শকদের কাছে তাদের পেশাগত সম্পর্কের দৃঢ়তা পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জন ভাঙার প্রশ্নে তিনি কিছুটা দ্বিধা প্রকাশ করেন, বলেন “ছোট ছিলাম, বাচ্চা ছিলাম… বিপজ্জনক প্রশ্ন!” এরপর যোগ করেন, সম্পর্কের সমাপ্তি কেন ঘটেছে তা তিনি নিজেও জানেন না। দুজনের পথ একসঙ্গে শেষ হওয়া বাধ্যতামূলক নয়, এবং কাজের ব্যস্ততাই তাদেরকে অন্য কিছু ভাবার সুযোগই না দিয়েছিল।
ভবিষ্যতে আরেফিন শুভরের সঙ্গে আবার কাজ করার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিন্দু স্পষ্টভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, উপযুক্ত সুযোগ ও পরিস্থিতি তৈরি হলে দুজন আবার একসঙ্গে প্রকল্পে যুক্ত হতে চান। এই উন্মুক্ত মন্তব্যটি ভক্তদের মধ্যে পুনরায় প্রত্যাশা জাগিয়েছে।
দীর্ঘ নীরবতার পর এই স্বচ্ছ উপস্থিতি বিন্দুকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তার ক্যারিয়ার পুনরায় শুরু হবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে দর্শকরা তার পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা করছেন।
বিন্দুর এই কথোপকথন তার অতীতের কাজ, বিরতি এবং ব্যক্তিগত দিকগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি যে কোনো নতুন প্রকল্পে অংশ নিতে উন্মুক্ত, তবে তা তার পেশাগত পরিকল্পনা ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। ভবিষ্যতে কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।



