বম্বে হাই কোর্টে কুমার সানু রিটা ভট্টাচার্যার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তাদের ২০০১ সালের বিবাহবিচ্ছেদের চুক্তির একটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভিত্তিক। রিটা প্রথমবার প্রকাশ্যে এই আইনি পদক্ষেপের প্রতি তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
কুমার সানু, যিনি বহু বছর ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের সুরকার হিসেবে পরিচিত, তার এক্স-স্ত্রীর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে দেওয়া মন্তব্যকে মানহানিকর বলে দাবি করছেন। তিনি বলেন, রিটার কথাবার্তা তার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং বিচ্ছেদের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
মামলাটির পিটিশনে সানুর আইনজীবী সানা রাইস খান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে রিটা যে সাক্ষাৎকারগুলো দিয়েছেন সেগুলো মুছে ফেলা এবং ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ প্রদান করা দরকার।
বিবাহবিচ্ছেদের চুক্তিতে একটি বিশেষ ধারা রয়েছে, যা উভয় পক্ষকে পারস্পরিক অভিযোগ জনসমক্ষে না করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। সানু দাবি করছেন রিটার সাম্প্রতিক মন্তব্য এই ধারা লঙ্ঘন করেছে।
রিটা ভট্টাচার্যা প্রথমবার প্রকাশ্যে এই মামলায় তার শক ও অবাক অবস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কখনো এত বড় আর্থিক দাবি প্রত্যাশা করেননি এবং এই দাবিটিকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, সানু যে ৫০ কোটি টাকা চাচ্ছেন তা তার সামর্থ্যের বাইরে এবং তিনি এই পরিমাণের কোনো সম্পদ রাখেন না। রিটা এই দাবিকে “দুঃখজনক” এবং “অবিশ্বাস্য” বলে বর্ণনা করেছেন।
রিটা জোর দিয়ে বলেছেন যে তিনি সানুর তিনটি বড় সন্তানকে জন্ম দিয়েছেন এবং এখনো তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগের সুযোগ পাননি। তিনি উল্লেখ করেন, সন্তানদের সঙ্গে সানুর কোনো সংযোগ নেই এবং তিনি সবসময়ই অবহেলিত বোধ করেন।
এই বিরোধের মূল সূত্র কিছু মিডিয়া সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত মন্তব্যে ফিরে যায়। এই বছর শুরুতে অভিনেতা কুনিক্কা সাদানন্দের একটি বিবৃতি, যেখানে তিনি একটি বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন, তা আলোচনার সূত্রপাত করে।
সেই মন্তব্যের পর রিটা ও তার পুত্র জান সানু সামাজিক প্ল্যাটফর্মে প্রতিক্রিয়া জানান, যা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে মামলায় রূপ নেয়।
রিটা জানান, তিনি সানুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার কোনো সুযোগ পাননি। তিনি বহুবার ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সানু তার কলগুলো গ্রহণ করেননি এবং তার নম্বর ব্লক করা আছে।
তিনি সানুর সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করে এই বিষয়টি বন্ধ করার অনুরোধও করেন। রিটা এই পরিস্থিতিকে “বড় অপমান” বলে উল্লেখ করেন এবং সানুর এই পদক্ষেপকে তার পরিবারের প্রতি আঘাতস্বরূপ বলে সমালোচনা করেন।
রিটা আরও বলেন, তার পুত্রের বিবাহের প্রস্তুতি চলছিল, এবং শাশুড়ি পক্ষের প্রশ্নের মুখে তিনি বারবার সানুর কাছ থেকে উত্তর চেয়েছেন। তবে সানু কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
রিটা দাবি করেন, তার কাছে সব প্রাসঙ্গিক বার্তা ও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে, যা তিনি প্রয়োজনীয় হলে আদালতে উপস্থাপন করতে প্রস্তুত। তিনি মামলাটির মাধ্যমে নিজের ও সন্তানদের অধিকার রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
এই মামলাটি বিনোদন জগতের দুই প্রখ্যাত ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের পরবর্তী রায়ের অপেক্ষা চলমান, এবং উভয় পক্ষের সমর্থকগণ এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন।



