রাবাতের প্রিন্স মুলায় আব্দেল্লা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে হোস্ট দেশ মরক্কো কমোরোসকে দুই গোলের পার্থক্যে পরাজিত করে শুরুর সূচনা করল। ৬০,১৮০ দর্শকের সামনে গরম প্রত্যাশা নিয়ে দলটি মাঠে নামল, যেখানে মরক্কোর ক্রাউন প্রিন্স মুলায় হাসান ও ফিফা প্রেসিডেন্ট গিয়ানি ইনফ্যান্টিনো উপস্থিত ছিলেন।
প্রথমার্ধে মরক্কোর আক্রমণমূলক খেলায় কিছুটা বাধা পেল, যখন ব্রাহিম দিয়াজের পেনাল্টি প্রচেষ্টা সউফিয়ান রাহিমির হাতের কাছে আটকে যায়। দিয়াজের পেনাল্টি নেওয়ার আগে আইয়াদ মোহাম্মদ তাকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ফাউল করে, ফলে রাহিমি পেনাল্টি রক্ষায় সফল হন।
দ্বিতীয়ার্ধের দশ মিনিট পর দিয়াজের দ্রুত গতি ও সঠিক শুটিং ফলস্বরূপ তিনি পেনাল্টি এলাকার কাছাকাছি থেকে এক শক্তিশালী শট দিয়ে স্কোরের প্রথম গোলটি করেন। এই গোলটি দলকে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করে এবং ম্যাচের প্রবাহকে পরিবর্তন করে।
এরপর পরিবর্তিত আক্রমণকারী আয়ুব এল কাবি একটি চমকপ্রদ ওভারহেড কিক দিয়ে দ্বিতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন। তার এই চমৎকার শটটি সরাসরি জালে গিয়ে স্কোরকে ২-০ করে তুলল, যা ম্যাচের ফলাফলকে নিশ্চিত করে।
মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই ম্যাচের পর মন্তব্য করে বলেন, “প্রথম ম্যাচে হোস্ট দলের উপর প্রত্যাশা বেশি থাকে, তাই আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঘটেছে। দুই বছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাই টেনশন স্বাভাবিক। ২-০ স্কোরটি যথার্থ, আর শেষ পাঁচ মিনিটে একটু শিথিল হওয়ায় তৃতীয় গোলের সুযোগ হারিয়েছি। প্রথম ম্যাচে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স না দেখলেও ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আক্রাফকে ঝুঁকি নিতে চাই না, তার অ্যানকেল আঘাতের পর সতর্কতা অবলম্বন করছি।”
মরক্কোর ক্যাপ্টেন আক্রাফ হাকিমি পুরো ম্যাচটি বেঞ্চে বসে দেখেছেন। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন ক্লাবের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক অ্যানকেল আঘাতের পর তিনি কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি, তাই কোচ তাকে সংরক্ষণে রাখছেন।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আফ্রিকার শীর্ষে এবং বিশ্বে ১১তম স্থানে থাকা মরক্কো, এই জয় দিয়ে তাদের বিশ্ব রেকর্ড জয়ী সিরিজকে ১৯তম ম্যাচে বাড়িয়ে তুলেছে। দলটি এখন গ্রুপ এ-তে মালি ও জাম্বিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
ম্যাচের পর দলটি সামগ্রিকভাবে আত্মবিশ্বাসী দেখালেও, কোচ রেগ্রাগুই পরবর্তী ম্যাচে আরও সুনির্দিষ্ট কৌশল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। দলটি এখন পর্যন্ত ধারাবাহিক জয় বজায় রেখেছে, তবে গ্রুপের প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনা করে পরবর্তী ম্যাচে সম্পূর্ণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা হবে।
মরক্কোর এই জয় শুধুমাত্র স্কোরবোর্ডে নয়, দর্শকদের মনেও একটি ইতিবাচক ছাপ ফেলেছে। ভেজা ও শীতল রাতের পরিবেশে ৬০,১৮০ জনের বিশাল সমাবেশে দলটি চ্যাম্পিয়নশিপের পথে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেছে। এখন সময় এসেছে গ্রুপের পরবর্তী দুই ম্যাচে এই গতি বজায় রাখার এবং চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার।



