২১ ডিসেম্বর রবিবার বিকেল প্রায় তিনটা ত্রিশ মিনিটে ঢাকা শহরের মহাখালীর টিবি গেট সংলগ্ন সেবা নার্সিং ইনস্টিটিউটের নির্মাণাধীন ভবনে একদল মাস্ক পরা ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা উপস্থিত একজন প্রকৌশলীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে, তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সাইট ব্যবস্থাপক মো. নাজিমুদ্দিন (৪২)‑কে আক্রমণ করে।
মো. নাজিমুদ্দিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার খানপুর গ্রাম থেকে, তার পিতার নাম আমিনুল্লাহ চৌধুরী, এবং বর্তমানে তিনি ঢাকা নাখালপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। তিনি নির্মাণ সাইটের দায়িত্বে ছিলেন এবং ঘটনার সময়ই সাইটে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আক্রমণকারী দলের সংখ্যা আট থেকে দশের মধ্যে ছিল। তারা মাস্ক ও গোপনীয় পোশাক পরিধান করে ভবনে প্রবেশ করে এবং প্রকৌশলীকে না পেয়ে নাজিমুদ্দিনের দিকে আক্রমণ চালায়। গুলি ছোড়ার আগে তারা তাকে মারধর করে, এরপর পালানোর সময় গুলি করে।
গোলির প্রভাব নাজিমুদ্দিনের বাম হাঁটুর পাশে দিয়ে গিয়ে অন্য পাশে বেরিয়ে আসে। গুলি তার পায়ের হাড়ে প্রবেশ করলেও তা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে না গিয়ে পা থেকে বেরিয়ে আসে। আহত অবস্থায় তাকে তৎক্ষণাৎ সাইটের কাছাকাছি থাকা ডিএমসি (ঢাকা মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর নাজিমুদ্দিনের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। চিকিৎসা দলের তত্ত্বাবধানে তিনি জরুরি সেবা গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
আহত নাজিমুদ্দিনের ছোট ভাই আজিমউদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং জানান, আক্রমণকারীরা মাস্ক পরা অবস্থায় এসে একজন ইঞ্জিনিয়ারকে খুঁজছিল, তাকে না পেয়ে নাজিমুদ্দিনকে মারধর করে এবং পালানোর সময় গুলি করে।
বনানী থানার ওয়েসি অফিসার খলিফ মুনসুর ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গুলির প্রভাব নাজিমুদ্দিনের পা দিয়ে বেরিয়ে গেছে এবং তিনি বর্তমানে থানায় হেফাজতে আছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুলির প্রভাবের দিক এবং আঘাতের স্থান সম্পর্কে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
ওয়েসি অফিসার মুনসুরের মতে, গুলির দিক এবং গুলি ছোড়ার সময়ের অবস্থান নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। গুলির ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণ এবং সাইটে পাওয়া ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার কাজ চলছে।
আহত নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকলেও, গুলির শিকার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক রিপোর্ট জমা হয়েছে এবং মামলার ফাইলিং শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।
পুলিশের তদন্ত দল আক্রমণকারীদের সনাক্ত করতে সাইটের সিসিটিভি রেকর্ড, মোবাইল সিগন্যাল ট্রেসিং এবং গৃহীত ফিঙ্গারপ্রিন্টের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ না করে, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত, সাইটে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ টহল এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্মাণ কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ এবং নির্মাণ সংস্থার প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি সভা করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে। নাজিমুদ্দিনের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং দায়িত্বশীলদের আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করা এই মামলার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে রয়ে গেছে।



