হেলেন সিফ, যিনি পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে চরিত্রভূমিকা করেছেন, ২২শে ডিসেম্বর লস এঞ্জেলেসে শল্যচিকিৎসার জটিলতা থেকে সৃষ্ট সমস্যার ফলে মারা গেছেন। তার বয়স ৮৮ বছর।
পরিবারের প্রকাশে বলা হয়েছে, হেলেন কেবল দক্ষ অভিনেত্রীই নয়, প্রতিটি সেটে পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতেন। তিনি যেকোনো ভূমিকা, বড় হোক বা ছোট, তা গল্পে মূল্য যোগ করার সুযোগ হিসেবে দেখতেন।
ক্যারিয়ার শুরু থেকে তিনি টেলিভিশনের বিভিন্ন ধারায় উপস্থিত ছিলেন এবং তার নাম বহু জনপ্রিয় সিরিজে শোনা যায়। পাঁচ দশকের কাজের পরিধি তাকে শিল্পের এক বিশিষ্ট চরিত্র অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলেছে।
তার টিভি রেজ্যুমেতে ‘লু গ্রান্ট’, ‘ক্যাগনি অ্যান্ড লেসি’, ‘সিলভার স্পুনস’, ‘এল.এ. ল’ এবং ‘নটস ল্যান্ডিং’ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও ‘এলেন’, ‘ম্যারিড… উইথ চিলড্রেন’, ‘ধর্মা অ্যান্ড গ্রেগ’ এবং ‘স্ক্রাবস’ মতো শোতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
‘উইল অ্যান্ড গ্রেস’, ‘মাই নেম ইজ আরল’, ‘মডার্ন ফ্যামিলি’, ‘এসডব্লিউএটি’, ‘মম’ এবং ‘কার্ব ইউ এনথুজিয়াজম’ সহ আরও বহু সিরিজে তার উপস্থিতি দর্শকদের কাছে পরিচিতি এনে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘গুড ট্রাবল’ তেও তিনি কাজ করেছেন।
মঞ্চে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৩ সালে অফ-ব্রডওয়ে প্রযোজনা ‘গ্র্যান্ডমা সিলভিয়ার ফিউনারাল’ এ তিনি হেলগা চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন, যা একটি ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করত।
এরপর তিনি ‘লিলিস অফ দ্য ফিল্ড’, ‘লস্ট ইন ইয়ংকার্স’ এবং ‘ওভার দ্য রিভার অ্যান্ড থ্রু দ্য উডস’ মত নাটকে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তার পারফরম্যান্স সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।
সিফের প্রথম বিজ্ঞাপন ক্যারিয়ার ১৯৭৬ সালে শুরু হয়, যখন তিনি এবং তার একদমই একই রকম জোড়া বোন ক্যারোল ইনফিল্ড সেন্ডার একসাথে সাবারুর ‘টু কার্স ইন ওয়ান’ স্পটে উপস্থিত হন। এই বিজ্ঞাপনটি তার পরবর্তী কাজের ভিত্তি স্থাপন করে।
চলচ্চিত্রে তার প্রথম বড় ভূমিকা ছিল ১৯৮৪ সালের ‘দ্য কারাতে কিড’ এ ক্যাশিয়ার চরিত্রে। এই ছবিতে তিনি প্রধান চরিত্রের পাশে কাজ করে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
২০০৮ সালে ‘ইউ ডোন্ট মেস উইথ দ্য জোহান’ এ তিনি মিসেস স্কিটজার নামে এক নারী চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে তিনি হেয়ারড্রেসার সেলুনের দৃশ্যে উপস্থিত হন।
২০১৬ সালের কোয়েন বোনদের ‘হেইল, সিজার!’ এ তিনি চ্যানিং টাটামের চরিত্রের মালিবু বাড়িতে কাজ করা মেয়ের ভূমিকায় দেখা গিয়েছেন। এই চরিত্রটি তার সূক্ষ্ম অভিনয়ের মাধ্যমে ছবির পরিবেশে স্বাদ যোগ করেছে।
এর পাশাপাশি তিনি ‘রকি’ (১৯৭৬), ‘বিগ টপ পি-ভি’ (১৯৮৮), ‘আর্থ গার্লস আর ইজি’ (১৯৮৮), ‘সিটি স্লিকার্স II: দ্য লেজেন্ড অফ কার্লি’স গল্ড (১৯৯৪) এবং ‘দ্য ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স অফ মিসেস উ’ (২০০১) তে ছোট কিন্তু স্মরণীয় চরিত্রে উপস্থিত ছিলেন।
হেলেন সিফের দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ার এবং বহুমুখী কাজের পরিসর তাকে আমেরিকান বিনোদন জগতে এক অনন্য স্থান দিয়েছে। তার বিদায়ের পরেও তার কাজের স্মৃতি এবং পেশাদারিত্বের উদাহরণ নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে।
শিল্পের সহকর্মী এবং ভক্তরা তার মানবিক গুণাবলী ও কাজের প্রতি নিষ্ঠার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, এবং তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ভবিষ্যতে তার কাজের পুনরায় মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন।



