জনপ্রিয় জিম বিম বোরবন ব্র্যান্ডের মালিক প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি রাজ্যের প্রধান ডিস্টিলারিতে পুরো ২০২৪ বছর উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোম্পানি সাইটের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য সুযোগ গ্রহণের ইচ্ছা উল্লেখ করেছে।
ডিস্টিলারির বন্ধ থাকা কালীন সময়ে, জিম বিম সাইটে অবকাঠামোগত উন্নতি, প্রযুক্তিগত আপডেট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে বিনিয়োগ করবে। এই কাজগুলো সম্পন্ন হলে, ভবিষ্যতে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুণগত মানের উন্নতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কোম্পানি ২০২৬ সালের চাহিদা পূর্বাভাসের ভিত্তিতে উৎপাদন স্তর পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং তা অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করছে। বর্তমান বন্ধটি দীর্ঘমেয়াদী বাজার চাহিদা মেটাতে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জিম বিমের মালিকানা জাপানের পানীয়দ্রব্য সংস্থা সান্টোরি গ্লোবাল স্পিরিটসের অধীনে। সান্টোরি যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে কেন্টাকিতে, এক হাজারেরও বেশি কর্মীকে কর্মসংস্থান প্রদান করে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডিস্টিলারির প্রধান উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হলেও, কোম্পানির অন্যান্য সুবিধা যেমন একটি পৃথক ডিস্টিলারি, বোতলিং প্ল্যান্ট এবং গুদামগুলো ২০২৪ সালে চালু থাকবে। এই সুবিধাগুলো থেকে সরবরাহ চেইন বজায় থাকবে এবং বাজারে পণ্য সরবরাহে কোনো বড় বাধা সৃষ্টি হবে না।
উৎপাদন বন্ধের সময় কর্মীসংখ্যা কীভাবে ব্যবহার করা হবে তা নির্ধারণের জন্য কোম্পানি শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং পুনঃপ্রশিক্ষণের সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষই সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করছে।
কেন্টাকি ডিস্টিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (KDA) অক্টোবর মাসে জানিয়েছে যে, রাজ্যের গুদামগুলোতে বোরবনের স্টক রেকর্ড উচ্চতা অতিক্রম করে ১৬ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি হয়েছে। এই বিশাল পরিমাণের স্টক রাজ্য সরকারকে উল্লেখযোগ্য কর আদায়ের সুযোগ দেয়, যা এই বছর ডিস্টিলারিগুলোর জন্য প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫৬ কোটি পাউন্ড) ব্যয়বহুল হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেড নীতি পরিবর্তনের প্রভাবও স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘লিবারেশন ডে’ ঘোষণার পর, আমেরিকান ডিস্টিলারিগুলোকে বিদেশি বাজারে প্রতিক্রিয়াশীল শুল্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা রপ্তানি চাহিদা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
KDA এই পরিস্থিতিতে পারস্পরিক শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের দ্রুত পুনরুদ্ধার দাবি করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে নীতি সমর্থনের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা, বিশেষ করে কানাডার বেশ কয়েকটি প্রদেশের আমেরিকান স্পিরিটের বয়কট, স্থানীয় বিক্রয়কে প্রভাবিত করেছে।
সামগ্রিকভাবে, জিম বিমের উৎপাদন বন্ধ একটি কৌশলগত পুনর্গঠন হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবে এটি শ্রমিক বাজার, কর আয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির ওপর প্রভাব ফেলবে। কোম্পানির অবকাঠামোগত বিনিয়োগ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় ভবিষ্যতে উৎপাদন পুনরায় চালু হলে বাজার শেয়ার পুনরুদ্ধার করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, ট্যারিফ ও বয়কটের মতো বহিরাগত ঝুঁকি মোকাবিলায় নীতি সমর্থন এবং বৈশ্বিক চাহিদা পর্যবেক্ষণ জরুরি।



