28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকদারফুরের ব্যস্ত মার্কেটে ড্রোন হামলায় দশজনের মৃত্যু

দারফুরের ব্যস্ত মার্কেটে ড্রোন হামলায় দশজনের মৃত্যু

দক্ষিণ দারফুরের আল-হারা বাজারে ড্রোন আক্রমণের ফলে দশজনের প্রাণ শেষ হয়েছে। ঘটনাটি শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন মালহার শহরে ঘটেছে এবং এখনও হামলার দায়িত্বকারী পরিচিত হয়নি। বিস্তৃত বাজারে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বহু দোকান পুড়ে গিয়ে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হামলার পরপরই স্থানীয় জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের ত্রাণ কাজ শুরু করে। মৃতদেহগুলোকে নিকটবর্তী হাসপাতাল ও শ্মশানে স্থানান্তর করা হয়, আর বেঁচে থাকা মানুষজন শোকের ছায়ায় বাজার ছেড়ে চলে যায়।

সুদানের সেনাবাহিনী ও প্যারামিলিটারি র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) এর মধ্যে সংঘর্ষ এপ্রিল ২০২৩ থেকে তীব্রতর হয়ে আসছে। দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের রূপ নেয়, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা নর্থ দারফুর ইমার্জেন্সি রুমস কাউন্সিলের মতে, ড্রোন আক্রমণের সুনির্দিষ্ট দায়িত্বকারী এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে তারা উল্লেখ করেছে যে হামলার পর বাজারে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও সম্পত্তি ক্ষতি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দ্রুত প্রকাশ পেয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সুদানের মানবিক সংকট নিয়ে আলোচনা চলমান, এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন শান্তি রক্ষার জন্য জরুরি মিশন পাঠানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা সংস্থা ইতিমধ্যে দারফুর অঞ্চলে অতিরিক্ত ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে, যাতে শরণার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সুদানের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আঞ্চলিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ড্রোন হামলা বাজারের মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে জনসাধারণের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। “এ ধরনের আক্রমণ স্থানীয় ব্যবসা বন্ধ করে দেয় এবং মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে,” একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন।

দারফুরের বাজারে ঘটিত এই হামলা, পূর্বে ঘটিত বিমান ও আর্টিলারি আক্রমণের ধারাকে অব্যাহত রাখে, যা ইতিমধ্যে অঞ্চলের বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে, কারণ বাজারের ধ্বংস তাদের জীবিকার সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আঞ্চলিক সরকারগুলোও এই ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। সুদানের কেন্দ্রীয় সরকার এবং আরএসএফ উভয়ই সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, যাতে অনধিকৃত আক্রমণ রোধ করা যায়।

অবশিষ্ট বেঁচে থাকা মানুষজনের জন্য ত্রাণ কাজ দ্রুত চালিয়ে যাওয়া জরুরি, কারণ বাজারের ধ্বংসের ফলে খাদ্য ও মৌলিক সামগ্রীর সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে স্থানীয় সরকার ও মানবিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে সুদানের সরকার ও আরএসএফের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি আলোচনা, এবং জাতিসংঘের শান্তি রক্ষাকারী মিশনের স্থাপনা, এই ঘটনার পরিণতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সামগ্রিকভাবে, দারফুরের আল-হারা বাজারে ড্রোন হামলা কেবলমাত্র মানবিক ক্ষতি নয়, বরং দেশের দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্বরিত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments