মন্টানা যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতে ২৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয়পত্র বিক্রির অভিযোগ আনতে ফেডারেল প্রসিকিউটররা পদক্ষেপ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড এবং মন্টানার ড্রাইভিং লাইসেন্সের নকল টেমপ্লেট অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগে তাকে মোট নয়টি অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে।
মন্টানা জেলা অ্যাটর্নি অফিসের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এফবিআই জাহিদের পরিচালিত তিনটি ওয়েবসাইটের ডোমেইন জব্দ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সাইটগুলোকে অবৈধ মার্কেটপ্লেস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত তিনি “টেক ট্রিক” এবং “ই গিফট কার্ড স্টোর বিডি” নামের সাইটে ভুয়া সরকারি নথিপত্র বিক্রি করছিলেন।
সাইটগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট টেমপ্লেটের দাম ছিল প্রায় ১২ ডলার, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ডের জন্য ৯.৩৭ ডলার এবং মন্টানার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১৪.০৫ ডলার। গ্রাহকরা ক্রয় প্রক্রিয়ার জন্য বিটকয়েনসহ অন্যান্য ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহার করতেন। চার বছরের মধ্যে প্রায় এক হাজার চারশো গ্রাহকের কাছ থেকে জাহিদের সাইটের মাধ্যমে মোট ২.৯ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহিদের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ ভুয়া পরিচয়পত্র বিক্রি ও হস্তান্তরের জন্য, দুটি অভিযোগ ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহারের জন্য এবং একটি অভিযোগ সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড জালিয়াতির জন্য দায়ের করা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পনেরো বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। শাস্তি শেষ হওয়ার পর তিন বছর পর্যন্ত প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে থাকতে হতে পারে।
এফবিআই ফেসবুকের মাধ্যমে একটি পোস্টে উল্লেখ করেছে যে, অবৈধ মার্কেটপ্লেস পরিচালনার অভিযোগে তিনি এক বাংলাদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করেছেন। পোস্টে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, জাহিদের সাইটগুলোতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল মুদ্রা প্ল্যাটফর্মের জন্য নকল নথিপত্র ব্যবহার করা হতো।
মন্টানা জেলা অ্যাটর্নি অফিসের মতে, জাহিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে। আদালতে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে এবং প্রতিরক্ষা দল তার যুক্তি উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে। যদি দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে উপরে উল্লেখিত শাস্তি কার্যকর হবে।
এই মামলাটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে ভুয়া সরকারি নথিপত্রের বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে অনলাইন জালিয়াতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সাইটগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি ডোমেইন জব্দের মাধ্যমে অপরাধীকে আর্থিকভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
বিষয়টি নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ভুয়া পরিচয়পত্রের বাণিজ্য শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপ করা অপরিহার্য।
মন্টানা আদালতে চলমান এই মামলায় জাহিদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তার উপর আরোপিত শাস্তি দেশের ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনলাইন জালিয়াতি বিরোধী নীতি প্রয়োগে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।



