পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ২১ ডিসেম্বর ইসলামাবাদের জাতীয় উলেমা সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে দেশের ধর্মীয় ও কৌশলগত দায়িত্ব সম্পর্কে বিশদ বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবীতে ৫৭টি ইসলামিক দেশ রয়েছে এবং আল্লাহ্ তাদের মধ্যে একটিকে মক্কা ও মদিনা পবিত্র নগরীর রক্ষক হিসেবে সম্মানিত করেছেন।
মুনিরের ভাষণে তিনি পাকিস্তানকে প্রাচীন সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেন। দুই রাষ্ট্রই রমজান মাসে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ঐতিহাসিক সাদৃশ্য রয়েছে এবং উভয়ের গঠন হিজরতের সঙ্গে যুক্ত। এই তুলনা থেকে তিনি পাকিস্তানের ধর্মীয় পরিচয় ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তা জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তিগত গোষ্ঠী বা সংগঠন রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া জিহাদ সংক্রান্ত ফতোয়া জারি করতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জিহাদ সংক্রান্ত কোনো ধর্মীয় নির্দেশনা কেবলমাত্র সরকারী অনুমোদন ও আদেশের ভিত্তিতে হতে পারে, অন্যথায় তা অবৈধ।
সম্মেলনে মুনির কুরআনের কয়েকটি আয়াত উদ্ধৃত করে ধর্মীয় নীতির সঙ্গে সামরিক নীতি সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতির পারস্পরিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন।
মুনিরের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে তিনি ভারতের সঙ্গে গত মে মাসে চার দিনের সামরিক সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের প্রতিশোধমূলক অভিযান “বুনিয়ানুম মারসুস” চলাকালে সশস্ত্র বাহিনীকে ঐশ্বরিক সহায়তা অনুভব হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের সামরিক কৌশলে আধ্যাত্মিক দিকের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
বক্তা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামাবাদ বারবার আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানোর বিরোধিতা করেছে এবং কাবুলের এই অভিযোগ অস্বীকারের পরেও পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে।
সম্মেলনের সময় মুনির প্রশ্ন তোলেন, “আফগানিস্তান কি আমাদের পাকিস্তানি শিশুদের রক্ত ঝরাচ্ছে না?” এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি সীমান্তে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট মানবিক ক্ষতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তালি বান গোষ্ঠীকে পাকিস্তান ও টিএটিপি (তালেবান-ই-ইসলাম) এর মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলা হয়েছে, যা দুই দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
মুনিরের মন্তব্যের ভিত্তিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো গোষ্ঠী জিহাদ সংক্রান্ত ফতোয়া জারি করতে পারে না এবং এ ধরনের কাজের ফলে সৃষ্ট অশান্তি ও সন্ত্রাসবাদকে রোধ করা জরুরি।
বক্তা উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের ধর্মীয় ও কৌশলগত নীতি একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। তিনি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দেন।
সম্মেলনের শেষে মুনিরের বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পাকিস্তানের ধর্মীয় নীতি ও সামরিক কৌশলের সমন্বয় হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তিনি ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সমর্থন নিয়ে নিরাপত্তা নীতি গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ধর্মীয় দায়িত্ব ও নিরাপত্তা নীতির সমন্বয় কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা আগামী সময়ে স্পষ্ট হবে।



