শনি‑রবিবার দুই দিন মিরপুর একাডেমি মাঠে সাধারণত দেখা যেত ব্যাটিং‑বোলিং‑ফিল্ডিং‑এর গাদাগাদি, তবে এই সপ্তাহান্তে মাঠে শুধু রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রশিক্ষণই চলেছে। অন্য সব দল তাদের ক্যাম্প অন্য জায়গায় সরিয়ে দিয়েছে, ফলে ঐ পরিচিত চাপের ধারা ভিন্ন রঙে দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের খেলোয়াড়রা কেন্দ্রীয় উইকেট ও একটি কোণার উইকেট দুটোই ব্যবহার করে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন। মুশফিকুর রহিম, আকবর আলি, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, এসএম মেহরাব, নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান ও রিপন মণ্ডল ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং‑এর সব দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। দু’দিনের এই সেশন তুলনামূলকভাবে স্বস্তিকর ছন্দে চলেছে, যেখানে খেলোয়াড়রা ঝুঁকি না নিয়ে টেকনিক শাণিত করার সুযোগ পেয়েছেন।
অন্যদিকে, রোববার বিকেলে রংপুর রাইডার্স প্রথম অনুশীলনের জন্য বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়। একই সময়ে সিলেট টাইটান্স সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার স্টেডিয়ামে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্ব সিলেট থেকে শুরু হবে এবং ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম রয়্যালসও সিলেটেই তাদের প্রস্তুতি চালু করবে বলে জানানো হয়েছে।
মিরপুরের শের‑ই‑বাংলা স্টেডিয়াম থেকে প্রায় ষোলো কিলোমিটার দূরে পূর্বাচলে নতুন একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যেখানে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ক্যাপিটালসের একাডেমি প্রকল্পে সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও সাবেক বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ, জাতীয় ক্রিকেটার সৌম্য সরকার এবং মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে। একই মাঠে সোমবার নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রশিক্ষণও শুরু হবে।
ক্যাপিটালসের অনুশীলনের মাঝেই নোয়াখালীর কোচ খালেদ মাহমুদ হঠাৎ উপস্থিত হন। তখন সাইফ উদ্দিন প্যাড পরে, ব্যাট হাতে চেয়ারে বসে ছিলেন; দুজনের কথোপকথনে কয়েকজন সাংবাদিকও যোগ দেন। এই অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎকারের মুহূর্তে মাঠের পরিবেশে সামান্য পরিবর্তন দেখা যায়।
ক্যাপিটালসের ব্যাটিং সেশন প্রত্যাশা অনুযায়ী অগ্রসর হয়নি। পূর্বের দিন প্রস্তুত করা উইকেট সামান্য ভেজা ছিল এবং দিনের সূর্যালোকে পুরোপুরি শুকায়নি। ফলে ব্যাটিং স্কিল শাণিত করার জন্য দরকারি শর্ত পূরণ হয়নি, তবে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার নাসির হোসেন দৃশ্যমানভাবে মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে গেছেন। তার থ্রোডাউন থেকে বের হওয়া বলগুলো একের পর এক সীমা পার হয়ে গিয়েছে, যা মাঠের বাইরে থাকা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
একজন দর্শক মন্তব্য করেন, “নাসির ভাই এমন ব্যাটার, ভেজা উইকেটেও শটগুলো ঠিকঠাক চলে।” এই কথাটি মাঠের পরিবেশ ও খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টার একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে ধরা পড়েছে।
বিপিএল দলগুলো এই সপ্তাহে বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে আসন্ন টুর্নামেন্টের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়। মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী গাদাগাদি এখন কিছুটা শান্তিপূর্ণ রূপে রূপান্তরিত হয়েছে, আর নতুন ক্যাম্পগুলোতে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ও উদ্যম স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ ম্যাচের সূচি নির্ধারিত হওয়ায় প্রত্যেক দলই তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুশীলন চালিয়ে যাবে।



