ঢাকা শহরের একটি আদালত রবিবার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফয়সালকে ইনক্লাব মনচোর মুখপাত্র শারিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতএব, তিনি দেশের বাইরে কোনো ভ্রমণ করতে পারবেন না।
এই আদেশটি ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন মুহাম্মদ জনাইদের মাধ্যমে দেওয়া হয়। তিনি ডিটেকটিভ শাখা (ডিবি) কর্তৃক দাখিল করা আবেদনপত্রের ভিত্তিতে এই রায় দেন। আদালতে উপস্থিত এক সি.আই.এস. কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি বিভাগের আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফয়সাল করিম মাসুদকে রওনা হওয়া থেকে রোধ করা প্রয়োজন, যাতে চলমান তদন্তে কোনো বাধা না সৃষ্টি হয়। আদালত এই যুক্তিকে স্বীকার করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
সেই একই দিনে, ডিবি কর্তৃক দাখিল করা পিটিশনের ফলে পূর্বে ‘প্রয়াসী হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচিত মামলাটি ‘হত্যা’ হিসেবে রূপান্তরিত হয়। ফলে মামলার আইনি শাস্তি ও প্রক্রিয়া কঠোর হয়।
১৪ ডিসেম্বর ইনক্লাব মনচোর সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন মডেল থানা-তে ফয়সাল এবং অজানা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফয়সালকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
হাদি, যিনি ঢাকা-৮ থেকে সংসদ সদস্যের প্রার্থী ছিলেন, ১২ ডিসেম্বর পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর মাথা আঘাত পান। গুলি চালানো ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও তদন্তাধীন। গুলির ফলে হাদির শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয়। চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায়, ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানবাহী করা হয়।
সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর হাদি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি হন। তবে ১৮ ডিসেম্বর রাতের দিকে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার দেহ পরের দিন বাংলাদেশে পৌঁছে দেয়া হয়।
হাদির দেহের পুনরুদ্ধার ও শোকসন্ধ্যায় পরিবার ও সমর্থকরা শোক প্রকাশ করেন। মৃতদেহের আনুষ্ঠানিক দেহান্তর ও শেষকৃত্য সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
অপরদিকে, আগামী সোমবার থেকে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে দুই লাখ অষ্টাদশ হাজার একশ ষাট টাকা নির্ধারিত হয়েছে। পূর্বের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল দুই লাখ সতেরো হাজার তিরিশ আট টাকা। স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
আদালত এখন ফয়সাল করিম মাসুদকে রিলিজ না করার পাশাপাশি, মামলার পরবর্তী শোনানির তারিখ নির্ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডিবি ও অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা মামলার সব দিক বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে প্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত। ভবিষ্যতে কী রকম রায় হবে তা বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।



