যাগ্রেব, ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী, শীতকালে পর্যটক আকর্ষণ বাড়িয়ে ইউরোপের শীর্ষ ক্রিসমাস মার্কেটের মধ্যে স্থান অর্জনের লক্ষ্যে তার অ্যাডভেন্ট বাজারকে ব্যাপকভাবে প্রচার করছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল ডিসেম্বর মাসে শহরের অর্থনৈতিক প্রবাহকে গ্রীষ্মের তুলনায় সমান মাত্রায় নিয়ে আসা।
ইউরোপের বহু শহরে ক্রিসমাস বাজার শুধুমাত্র ঐতিহ্যবাহী উৎসব নয়, বরং শীতকালে উল্লেখযোগ্য আয় সৃষ্টিকারী বড় ব্যবসা। প্রতিটি বছর এই বাজারে ভ্রমণকারী পর্যটকদের ব্যয় শহরের মোট আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
ক্রোয়েশিয়ার মোট জিডিপির প্রায় এক পঞ্চাশ ভাগ পর্যটন থেকে আসে, এবং সরকার গ্রীষ্মের শীর্ষ মৌসুমের বাইরে পর্যটক প্রবাহ বাড়াতে বিশেষ নীতি চালু করেছে। শীতকালীন পর্যটনকে উৎসাহিত করা এই কৌশলের কেন্দ্রীয় অংশ।
পর্যটন মন্ত্রী টোনচি গ্লাভিনা দেশের পর্যটনকে শুধুমাত্র গ্রীষ্মের গন্তব্য নয়, বরং সারা বছরব্যাপী গন্তব্যে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ক্রোয়েশিয়া এখন শুধুমাত্র সূর্য ও সমুদ্রের জন্যই নয়, বরং দেশের প্রতিটি অঞ্চলে বৈচিত্র্যময় পর্যটন পণ্য সরবরাহ করে।
যাগ্রেবের অ্যাডভেন্ট, যা রাজধানীর ক্রিসমাস বাজার ও সংশ্লিষ্ট ইভেন্টের সমষ্টিগত নাম, এই রূপান্তরের মুখ্য উদাহরণ। প্রতিবেশী দেশগুলোর বিলবোর্ডে এই বাজারের প্রচার দেখা যায়, যা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বছরের এই প্রচারাভিযান লন্ডনের মেট্রো স্টেশন এবং মিলানের বাসে পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ইউরোপের বিভিন্ন শহর থেকে আগত ভ্রমণকারীদের জন্য সরাসরি বিজ্ঞাপন হিসেবে কাজ করছে।
স্লোভেনিয়া ও হাঙ্গেরি থেকে বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে, যাতে এই দুই দেশের বাসিন্দা ও পর্যটকরা সহজে যাগ্রেবের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছাতে পারে। এই সংযোগ ব্যবস্থা শীতকালীন ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করে তুলছে।
অনেক শহর যেখানে একক স্কোয়ারে সব কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখে, সেখানে যাগ্রেবের অ্যাডভেন্ট বহু ভেন্যুতে বিস্তৃত, যা শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রের বড় অংশকে ছুঁয়ে যায়। এই বহুমুখী বিন্যাস দর্শকদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
বাজারের ব্যবস্থাপক স্লাভিকা ওলুজিক ক্লাপচিকের মতে, পুরো শহরই ডিসেম্বর মাসে একটি বৃহৎ উৎসবমঞ্চে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রতিটি ভেন্যুতে আলাদা থিম, সজ্জা এবং পণ্য সমাহার রয়েছে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য একাধিক ভিন্ন পরিবেশ একসাথে উপভোগের সুযোগ দেয়।
এই বৈচিত্র্য ভিজিটরদের জন্য মূল্যবোধ বাড়ায় এবং তাদেরকে দীর্ঘ সময় শহরে থাকতে উৎসাহিত করে, ফলে হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং স্থানীয় দোকানগুলোর আয় বৃদ্ধি পায়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন যে এই বিস্তৃত বাজারের ফলে শীতকালে হোটেল দখল, রেস্টুরেন্টের বিক্রয় এবং খুচরা বিক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, যা গ্রীষ্মের শীর্ষ মৌসুমের তুলনায় শীতের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
যদি এই প্রচারাভিযান সফল হয়, যাগ্রেব ভিয়েনা, প্রাগ এবং বার্লিনের মতো প্রতিষ্ঠিত ক্রিসমাস বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় শীতকালীন গন্তব্যে পরিণত হবে, ফলে শহরের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় ও জাতীয় পর্যটন খাতের জন্য স্থায়ী আয় নিশ্চিত হবে।



