রোববার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ৪৫০ বস্তা আলু উদ্ধার করেছে, যা নলছিটি উপজেলায় মগড় ইউনিয়নের খাওখীর গ্রাম কালিজিরা খালের তীর থেকে পাওয়া গেছে। আলুসমূহের মালিকানা অজানা থাকলেও, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সেগুলো তুলে নিয়েছে।
মগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিন্টু খান জানান, বুধবার রাতের দিকে অচেনা কয়েকজন ব্যক্তি আলু ভর্তি একটি বড় ট্রলারকে খালের পার্শ্ববর্তী মনির তালুকদারের জমিতে নিয়ে গিয়ে, ট্রলারটি খালি রেখে চলে যান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রথমে গ্রামবাসীরা ভেবেছিলেন যে আলুগুলো বিক্রি হবে, কিন্তু তিন দিন পরেও কোনো ক্রেতা না আসায় সন্দেহ বাড়ে।
মিন্টু খান জানান, তিনি আলুর মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন, তবে কোনো ফল না পেয়ে শেষমেশ পুলিশকে জানাতে বাধ্য হন। এরপর নলছিটি থানার তদন্তকারী অফিসার আশরাফ আলী ঘটনাটির তদন্তে যুক্ত হন এবং উদ্ধারকৃত আলুসমূহকে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়।
মগড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জামাল হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত আলুসমূহ এখন তার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আলুসমূহের সঠিক মালিকানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
নলছিটি থানার তদন্তকারী অফিসার আশরাফ আলী বলেন, “প্রাসঙ্গিক প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।” তিনি জানান, তদন্ত চলাকালীন প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সংগ্রহের কাজ চলছে।
অধিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, আলুসমূহের অচেনা মালিকানা এবং ট্রলারটি খালি রেখে যাওয়া ঘটনাটি সম্ভবত চুরি বা অবৈধ সঞ্চয়ের ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় আইন অনুযায়ী, চুরি বা অবৈধ সঞ্চয় সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব, এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করতে পারেনি, তবে স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়িয়ে তদন্ত চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ একসঙ্গে কাজ করবে, যাতে সমজাতীয় ঘটনা পুনরায় না ঘটে।



