22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমেজর আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর মন্তব্য

মেজর আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর মন্তব্য

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় গচিহাটা কলেজ মাঠে শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি জানিয়ে দেন যে, তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন, যা তার পূর্বের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বহিষ্কারের পরের একটি নতুন পদক্ষেপ।

আখতারুজ্জামান উল্লেখ করেন, গত তিন বছর ধরে তিনি বিএনপি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিলেন; কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি, এমনকি বিয়ের দাওয়াতও পাননি। তিনি বলেন, “আমি দল ছেড়ে আসিনি, আপনাদের দ্বারা আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে।” এই বিচ্ছিন্নতার পর তিনি সামাজিক মিডিয়ায় নিজের প্রতি বাড়তি মনোযোগ লক্ষ্য করেন, যেখানে বহু বন্ধু তার নাম নিয়ে পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। তিনি এই মনোযোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা এখন বুঝতে পারছেন আমি আপনার ঘরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিলাম।”

বিএনপি থেকে বহিষ্কারের কারণ ও পটভূমি সম্পর্কে তিনি বিশদে কিছু না বললেও, তার মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি দলের অভ্যন্তরে কোনো স্বেচ্ছা পদত্যাগ করেননি। তদুপরি, তিনি উল্লেখ করেন যে, আজকের তার প্রতি গালাগাল ও তিরস্কারও তাকে সন্তোষজনক, কারণ তা থেকে বোঝা যায় যে, তার প্রাক্তন সহকর্মীরা এখনও তার কথা ভাবছেন।

মেজর আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীকে তার নতুন আশ্রয়স্থল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “যদি তারা আমাকে আশ্রয় না দিত, তবে হয়তো আমি রাস্তায় পড়ে থাকতাম।” তিনি তার বয়স ও আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে তার ঘরে চাল, চুলা ইত্যাদি মৌলিক জিনিসের অভাব রয়েছে, ফলে নতুন ঘর বা দল গড়ে তোলার সামর্থ্য তার নেই। এই পরিস্থিতিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এ বয়সে কেউ আমাকে আশ্রয় দেবে না, তবে জামায়াতে ইসলামী আমাকে আশ্রয় দিয়েছে, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

তার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন যে, আখতারুজ্জামানের জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান কিশোরগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন দিক যোগ করতে পারে। তিনি যেহেতু একটি স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও পূর্বের সংসদ সদস্য, তার সমর্থক ও অনুগামীদের মধ্যে তার স্থানান্তর জামায়াতে ইসলামীকে ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে, বিএনপি তার প্রাক্তন সদস্যের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক দুর্বলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

আখতারুজ্জামান ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেন, তিনি নতুন কোনো দল গঠন বা বড় রাজনৈতিক প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন না। তার প্রধান লক্ষ্য হল জামায়াতে ইসলামীতে তার বর্তমান অবস্থান বজায় রাখা এবং তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। তিনি উল্লেখ করেন, “এই কৃতজ্ঞতা আজীবন থাকবে,” এবং জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি আর কোনো রাজনৈতিক সংঘাতে জড়াবেন না, বরং তার নতুন পারিবারিক পরিবেশে শান্তি বজায় রাখতে চান।

এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, স্থানীয় নির্বাচনী বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, আখতারুজ্জামানের উপস্থিতি জামায়াতে ইসলামীকে কিশোরগঞ্জের নির্বাচনী প্রান্তিক এলাকায় প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে, তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ও পূর্বের সংসদ সদস্যের অভিজ্ঞতা পার্টির প্রচারাভিযানে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে। তবে, তার আর্থিক অবস্থা ও সামাজিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি নিজেকে একটি সীমাবদ্ধ অবস্থায় দেখছেন, যা তার রাজনৈতিক কার্যক্রমকে সীমিত করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, মেজর আখতারুজ্জামানের এই মন্তব্য ও নতুন পার্টি যোগদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, প্রাক্তন দল থেকে বহিষ্কারের পর তিনি নতুন আশ্রয় খুঁজে পেয়েছেন এবং তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা এখন জামায়াতে ইসলামীতে সীমাবদ্ধ থাকবে। এই পরিবর্তন কীভাবে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব ফেলবে তা সময়ের সঙ্গে প্রকাশ পাবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments