চণ্ডীগড়ে পারফর্ম করার সময় এপি ধিলন তার ভক্তদের সামনে একটি অপ্রত্যাশিত দাবি তুলে ধরেন। তিনি দিলজিত দোসাঞ্জের কাছ থেকে ইনস্টাগ্রাম আনব্লক করার অনুরোধ করেন এবং উল্লেখ করেন যে তিন বছর ধরে কোনো বিতর্কে জড়িয়ে পড়েননি। ধিলন এই কথাগুলো পাঞ্জাবিতে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে প্রথমে তাকে আনব্লক করা দরকার, তারপরই কথোপকথন সম্ভব হবে।
দিলজিত দোসাঞ্জের ইন্ডোরে কনসার্টে তিনি এপি ধিলন ও করণ অউজলাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুজনকে “ভাই” বলে উল্লেখ করে তাদের ট্যুরের জন্য শুভকামনা জানিয়েছিলেন। এটাই ধিলনের পূর্ববর্তী মন্তব্যের ভিত্তি, যা ধিলন পরে চণ্ডীগড়ে উল্লেখ করেন।
ধিলনের মন্তব্যের পর দিলজিত দ্রুতই ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে উত্তর দেন। তিনি এপি ধিলনের প্রোফাইলের স্ক্রিনশট শেয়ার করে দেখিয়েছেন যে ধিলনের পোস্টগুলো এখনও দৃশ্যমান, ফলে কোনো ব্লকিং ঘটেনি। স্ক্রিনশটের নিচে তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য রেখে বলেন, “আমি কখনো তোমাকে ব্লক করিনি। আমার সমস্যাগুলো সরকারী বিষয়ের সঙ্গে হতে পারে, শিল্পীদের সঙ্গে নয়।”
দিলজিতের এই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় শিল্পীর ভক্তদের মধ্যে আলোচনার স্রোত তৈরি করে। তবে উভয়ই স্পষ্টভাবে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের ইঙ্গিত দেননি, বরং শিল্পের স্বাধীনতা ও একতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
ইন্ডোরে কনসার্টে দিলজিত স্বাধীন সঙ্গীতের উত্থানকে গুরুত্ব দিয়ে বলেছিলেন, “স্বাধীন সঙ্গীতের সময় এখন শুরু হয়েছে। বিপদ আসবে, তবে আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব।” তিনি শিল্পের বিকাশে বাধা না দিয়ে সৃষ্টিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
দিলজিতের “দিল-লুমিনাটি” ট্যুর অক্টোবর ২৬ তারিখে দিল্লিতে উদ্বোধন হয় এবং ডিসেম্বর ২৯ তারিখে গুআহাটি শেষ হবে। ট্যুরের মধ্যে তিনি ১৯ ডিসেম্বর মুম্বাইতে পারফর্ম করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। ট্যুরের সময় তিনি বিভিন্ন শহরে নতুন গানের সুর ও রিদম উপস্থাপন করে সঙ্গীতপ্রেমীদের আনন্দ দিয়েছেন।
অন্যদিকে এপি ধিলনের ভারত ট্যুরও সমানভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তিনি দেশের বিভিন্ন শহরে পারফর্ম করে নিজের সঙ্গীতের স্বতন্ত্র শৈলী উপস্থাপন করছেন। ধিলনের ট্যুরের সময় তিনি নতুন গানের লিরিক্স ও রিদম নিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন।
দুই শিল্পীর ট্যুরের সমন্বয় দেশের স্বাধীন সঙ্গীতের প্রবাহকে ত্বরান্বিত করেছে। উভয়ই সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে ফ্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন এবং তাদের সঙ্গীতের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছেন।
এই ঘটনায় দেখা যায় যে সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে শিল্পীরা সরাসরি তাদের ভক্তদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন এবং কোনো ভুল বোঝাবুঝি দ্রুত পরিষ্কার করতে পারেন। দিলজিতের স্ক্রিনশট শেয়ার করা এবং ধিলনের সরাসরি মন্তব্য উভয়ই এই দৃষ্টান্তকে তুলে ধরেছে।
বিনোদন জগতে এ ধরনের পারস্পরিক যোগাযোগ শিল্পের স্বচ্ছতা বাড়ায় এবং ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাসের সেতু গড়ে তোলে। উভয়ই তাদের নিজস্ব ট্যুরের মাধ্যমে সঙ্গীতের নতুন দিক উন্মোচন করছেন, যা দেশের সঙ্গীত দৃশ্যকে সমৃদ্ধ করে তুলছে।
দিলজিতের ট্যুরের শেষ গন্তব্য গুআহাটি, যেখানে তিনি শেষ কনসার্টের মাধ্যমে তার ট্যুরকে সমাপ্ত করবেন। এদিকে এপি ধিলনের ট্যুরের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পারফর্ম করে তার সঙ্গীতের বিস্তার বাড়িয়ে চলেছেন।
সামগ্রিকভাবে, দুই শিল্পীর মধ্যে ইনস্টাগ্রাম বিতর্কের পরও তারা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সঙ্গীতের মঞ্চে মনোনিবেশ করেছেন। তাদের ট্যুর এবং প্রকাশিত মন্তব্যগুলো স্বাধীন সঙ্গীতের উত্থান ও শিল্পীর পারস্পরিক সম্মানকে প্রতিফলিত করে, যা দেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করেছে।



