20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওয়াসিকুর রহমানের কারা হেফাজতে মৃত্যু

বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওয়াসিকুর রহমানের কারা হেফাজতে মৃত্যু

বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান (বাবু) কারা হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন। সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ রবিবারের ঘটনার তথ্য জানিয়ে জানান, বাবু গত সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত হওয়ার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্তে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বাবু ২৭ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কারাগার‑২-এ স্থানান্তরিত হন, যা তার সেপ্টেম্বর মাসের গ্রেপ্তার পরের প্রথম স্থানান্তর ছিল। একই মাসে এক মামলায় তার রিমান্ড মঞ্জুর হলে, রবিবার বিকেলে পুলিশ দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। হেফাজতে হস্তান্তরের সময়, বিকাল চারটার দিকে, বাবু হঠাৎ শ্বাসহীন হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাকে তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকগণ দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়ে দেন, বাবু ইতিমধ্যেই মৃত। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন, তবে হেফাজতে শারীরিক অবস্থা হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়া বিষয়টি তদন্তের মূল দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাবু বর্তমানে বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগে যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে নিযুক্ত ছিলেন। তার রাজনৈতিক পটভূমি ও স্থানীয় সংযোগের কারণে এই ঘটনার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর, ঢাকার পান্থপথ এলাকায় ‘ঝটিকা মিছিল’ চলাকালীন, বাবুকে স্থানীয় নাগরিকদের হাতে আটক করা হয়। পরে তাকে ‘গণপিটুনি’ ব্যবহার করে কলাবাগান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময় তিনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ছিলেন এবং গ্রেপ্তারের পরপরই কোনো চিকিৎসা সেবা পাননি বলে জানা যায়।

হেফাজতে মৃত্যুর পর, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট আদালত দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেয়। কারা হেফাজতে ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ দপ্তর গঠন করা হয়েছে এবং মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে রিম্যান্ডের ভিত্তিতে চলবে। একই সঙ্গে, মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তা প্রদান করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, হেফাজতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীলতা প্রয়োগের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। হেফাজতে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক পরীক্ষা, মেডিকেল রেকর্ড এবং হেফাজতকালীন রেকর্ডের বিশ্লেষণ অপরিহার্য বলে বলা হয়েছে।

বাবুর মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়ে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

এই ঘটনার পর, বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শোক প্রকাশের পাশাপাশি, হেফাজতে নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অধিক তথ্যের জন্য, সংশ্লিষ্ট তদন্ত দপ্তর ও আদালতের আদেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের নীতি ও প্রক্রিয়া গৃহীত হবে, তা পরবর্তী রিপোর্টে জানানো হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments