মেক্সিকোতে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের দাম ও সীমিত বিক্রয় পদ্ধতি ভক্তদের মধ্যে হতাশার স্রোত তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা ১৯৮৬ সালে দেশীয়ভাবে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতি সংরক্ষণ করে, তাদের জন্য এই অনুভূতি তীব্রতর।
১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচটি দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তখন ৭ বছর বয়সী জোনাথন জামোরা তার পিতার সঙ্গে আযতেকা স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মারাডোনার “হ্যান্ড অফ গড” গোল এবং পরের “সেঞ্চুরি গোল” উভয়ই স্মরণ করেন।
সেই সময় টিকিটের দাম ছিল প্রতি ব্যক্তি প্রায় ১৫০ ডলার, যা ১৩টি ম্যাচের প্যাকেজে বিক্রি হতো। আজকের মুদ্রা হারে তা প্রায় ৪৪২ ডলার বা ৩৩০ পাউন্ডের সমান। জামোরা তখন সস্তা সিটে বসে, উচ্চ স্ট্যান্ডের ভয় এবং ম্যাচের উত্তেজনা অনুভব করতেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের ঘোষণা পাওয়ার পর জামোরা পুনরায় স্টেডিয়ামে বসার স্বপ্ন দেখেন। তার পিতা, যিনি এখন ৭১ বছর বয়সী, সঙ্গে গিয়ে আবার একই অনুভূতি ভাগ করতে চান। জামোরা পেট্রোকেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে, রাষ্ট্রের তেল সংস্থার সেবা প্রদানকারী একটি কোম্পানিতে কাজ করেন।
টিকিটের উচ্চমূল্য সম্পর্কে তিনি জানেন, তবু তিনি তা অর্জনের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গত চার মাসে তিনি ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিটের জন্য তিনবার অনলাইন লটারি আবেদন করেন, তবে কোনো ফলাফল পাননি।
ফিফার লটারি পদ্ধতি টিকিটের অধিকার পাওয়ার একমাত্র সুযোগ হিসেবে কাজ করে, তবে আবেদনকারীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। জামোরা উল্লেখ করেন, তিনি এখনো নিশ্চিত নন কীভাবে তিনি ও তার পিতা ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন।
এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র জামোরার নয়, মেক্সিকোর বহু ভক্তের জন্যই উদ্বেগের কারণ। তারা অনুভব করেন যে টিকিটের দাম ও লটারি পদ্ধতি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে সীমাবদ্ধ করে, যেন ফুটবল আর্থিক শক্তির অধীনে চলে যাচ্ছে।
কিছু বিশ্লেষক টিকিটের দাম বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক স্পন্সরশিপ ও স্টেডিয়াম নির্মাণের ব্যয়কে উল্লেখ করেন, তবে ভক্তদের দৃষ্টিতে এটি কেবল আর্থিক বাধা নয়, বরং ফুটবলের জনসাধারণিক স্বভাবের ক্ষয়।
ফিফা এখনও টিকিটের বিক্রয় পদ্ধতি পরিবর্তনের কোনো ঘোষণা দেয়নি। ফলে ভক্তদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, বিশেষ করে যারা পুরনো স্মৃতি পুনরায় জীবন্ত করতে চান।
জোনাথন জামোরার মতো ভক্তদের জন্য টিকিটের অভাব কেবল ব্যক্তিগত হতাশা নয়, এটি দেশের ফুটবল সংস্কৃতির উপরও প্রভাব ফেলছে। তারা আশা করেন ভবিষ্যতে টিকিটের বণ্টন প্রক্রিয়া আরও ন্যায়সঙ্গত হবে।
মেক্সিকো সরকার ও ফিফা উভয়ই টিকিটের দাম ও বণ্টন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার দরকারীয়তা স্বীকার করেছে, তবে এখনো স্পষ্ট কোনো সমাধান প্রকাশিত হয়নি। ভক্তরা এই মুহূর্তে অপেক্ষা করছেন, কখনো আবার স্টেডিয়ামের গর্জনে নিজেদের কণ্ঠ শোনাতে পারবে কিনা।
সারসংক্ষেপে, উচ্চমূল্য টিকিট ও লটারি পদ্ধতি মেক্সিকোর ভক্তদের মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতি উত্তেজনা হ্রাস করেছে। জোনাথন জামোরার অভিজ্ঞতা এই অনুভূতির প্রতিফলন, যেখানে তিনি ও তার পিতা পুনরায় ফুটবলের উচ্ছ্বাসে অংশ নিতে চান, তবে বাস্তবিক বাধা তাদের পথে দাঁড়িয়ে আছে।



