চট্টগ্রামের রাওজান উপজেলায় শুক্রবার রাত্রি তিনটার পরে হিন্দু পরিবারগুলোর দুইটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জ্বালানি ব্যবহার করে বাড়িগুলোকে জ্বালিয়ে তুলেছে, ফলে সম্পত্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও বাসিন্দারা আতঙ্কে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
পুলিশের জানামতে, আগুনের শিকড়ে কেরোসিন তেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং বাড়ির প্রধান দরজা বাইরে থেকে লক করা ছিল। দরজা বন্ধ থাকায় বাসিন্দারা ঘেরাবাঁধা বেড়া কেটে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এই চতুর পদ্ধতি তাদেরকে ধোঁয়া ও আগুনের তীব্রতা থেকে বাঁচাতে সহায়তা করে।
বাড়িগুলোর আশেপাশের প্রতিবেশীরা অগ্নিকাণ্ডের শোরগোল শোনার সঙ্গে সঙ্গে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রতিবেশীদের ত্বরিত সহায়তা না থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারত।
রাওজান থানা থেকে শনিবার একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং এখন পর্যন্ত দুইজন সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ওপর তদন্ত চালিয়ে গৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম সুপারইন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, আক্রমণটি রাতের শূন্য সময়ে ঘটেছে, যখন পরিবারগুলো ঘুমিয়ে ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, কেরোসিন তেল দিয়ে পোশাকের ওপর ছিটিয়ে বাড়ির বাইরের অংশে আগুন জ্বালানো হয়। ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দারা দ্রুত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
পুলিশের মতে, এই ধরনের হিংসাত্মক কাজের পেছনে এলাকার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সাদৃশ্যকে নষ্ট করার ইচ্ছা থাকতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে। এই সন্দেহজনক উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে তদন্তকে ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী সুপারইন্টেনডেন্ট অব পুলিশ (এএসপি) বালায়ত হোসেন জানান, দুইটি বাড়িতে মোট তিনটি পরিবার বাস করছিল। প্রতিটি পরিবারের সদস্যের সংখ্যা ভিন্ন, তবে সবাই একই সময়ে শোবার ঘরে ছিলেন।
অভিযুক্তদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। পুলিশ দল স্থানীয় নিরাপত্তা ক্যামেরা, মোবাইল ফোনের জিপিএস ডেটা এবং সাক্ষীদের বিবরণ সংগ্রহ করে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আবারও উল্লেখ করা যায়, দায়ের করা মামলাটি এখন আদালতে পাঠানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সমাজের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি শোক ও উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ধর্মীয় সংস্থা ও সমাজের নেতারা শান্তি বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের উত্তেজনা না বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ সকলকে অনুরোধ করছে, যারা ঘটনাস্থল বা আশেপাশে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন, দ্রুত তাদের তথ্য প্রদান করুন। তদন্তের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট দেওয়া হবে।



