জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর সংগ্রহে গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে মোট ট্যাক্স রেভিনিউ ১,৪৮,১৩৭ কোটি টাকা রেকর্ড হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় ২৪,০০০ কোটি টাকা কম।
গত বছরের একই সময়ে সংগ্রহের পরিমাণ ১,২৮,৯৪৬ কোটি টাকা ছিল, ফলে এই বছর মোট সংগ্রহে প্রায় ১৯,১৯১ কোটি টাকার বৃদ্ধি ঘটেছে।
বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তিনটি মূল করধারা। স্থানীয় স্তরের মূল্য সংযোজন কর (VAT) প্রায় ২২ শতাংশ বাড়ে, যার ফলে সংগ্রহ ৫৮,২৩১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে পূর্বে এটি ৪৭,৭৪৩ কোটি টাকা ছিল।
আয়কর ও ভ্রমণ করের সংগ্রহও ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৭,৮৮১ কোটি টাকা হয়েছে। এই ধারার বৃদ্ধি সরকারী নীতি ও করদাতার সম্মিলিত অনুসরণকে নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত কাস্টমস ডিউটি ৫.২৮ শতাংশ বাড়ে, ফলে সংগ্রহ ৪২,৮৬৪ কোটি টাকা হয়েছে। সীমাবদ্ধতা শিথিল হওয়ার পর আমদানি বৃদ্ধি এই বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গত মাসে সরকারের একটি বৈঠকে অর্থবছরের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৫,৮৮,০০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত লক্ষ্যকে নিচের দিকে সমন্বয় করা হয়, তবে এই বছর অতিরিক্ত সংগ্রহের প্রত্যাশা এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
NBR নিজস্বভাবে লক্ষ্যকে ৫,০৩,০০০ কোটি টাকায় নির্ধারণ করেছে, যা আগের পরিকল্পনার তুলনায় উচ্চতর। এই নতুন লক্ষ্যকে অর্জন করা সহজ নয়, তবে সরকারী ও করপ্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টা এতে সহায়তা করবে।
একজন অজ্ঞাত NBR কর্মকর্তার মতে, এই লক্ষ্যটি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী, কারণ পূর্বে লক্ষ্যকে কমিয়ে নেওয়া সাধারণ প্রথা ছিল। তবে বর্তমান আর্থিক পরিবেশে লক্ষ্য বাড়ানো প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে বাস্তব সংগ্রহ ও লক্ষ্য মধ্যে পার্থক্য কমে আসতে পারে। এ জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় দশটি নতুন কর অঞ্চল যোগ করা হয়েছে, যা কর সংগ্রহের কার্যকারিতা বাড়াবে।
একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই লক্ষ্যকে অনুসরণ করা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, কর সংগ্রহের উন্নতি সরাসরি উন্নয়ন প্রকল্পের তহবিল নিশ্চিত করতে সহায়ক।
বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বাংলাদেশ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে সংগ্রহের অনুপাত কম হওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্নের মধ্যে রয়েছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ত্বরিত সংস্কার প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আগামী সোমবার থেকে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ২,১৮,১১৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এটি পূর্বের রেকর্ড ২,১৭,৩৮১ টাকার তুলনায় নতুন শীর্ষে পৌঁছেছে, যা বাজারের চাহিদা ও মুদ্রা মূল্যের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।



