27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিড. কামাল হোসেন গনো ফোরামের প্রেসিডেন্ট মিডিয়া আক্রমণ কঠোরভাবে নিন্দা করেন

ড. কামাল হোসেন গনো ফোরামের প্রেসিডেন্ট মিডিয়া আক্রমণ কঠোরভাবে নিন্দা করেন

গণো ফোরামের এমেরিটাস প্রেসিডেন্ট ড. কামাল হোসেন রবিবার ঢাকার দ্য ডেইলি স্টার ভবনে উপস্থিত হয়ে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে সংঘটিত ধ্বংসাত্মক হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের শাস্তি দাবি করেন। শুক্রবার ভোরে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের জানালাগুলি ভাঙা ও অগ্নিকাণ্ডে জ্বলে ওঠার পর, একই সময়ে প্রথম আলোর অফিসেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে। ড. হোসেনের মতে, এই দু’টি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ দেশের জনগণের স্বার্থের বিরোধী গোষ্ঠীর কাজ, যা অবিলম্বে সনাক্ত করে আইনের শাসনের আওতায় আনা দরকার।

ড. হোসেন উল্লেখ করেন, দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো দেশের জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তাই এ ধরনের সহিংসতা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি নষ্ট করার প্রচেষ্টা। তিনি সরকারের এই দুই মিডিয়া হাউসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে সমালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

ভিজিটের সময় ড. হোসেনের সঙ্গে গনো ফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তিনজনই মিডিয়া স্বাধীনতার গুরুত্ব ও আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।

দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর ওপর আক্রমণ ঘটার পর, উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও পাঠকগণ শক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হন, যদিও কোনো প্রাণহানি রিপোর্ট করা হয়নি। প্রথম আলোর অফিসে ভাঙচুরের ফলে কাগজপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট হয়, যা প্রকাশনা কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটায়।

গণো ফোরামের এই মন্তব্যের পাশাপাশি, আজ প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবতন্ত্রের কোনো স্থান নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। সম্পাদকীয়তে হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত অনুসন্ধান ও শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সহিংসতা উসকে দেওয়া সকলকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অধিকন্তু, সরকারকে মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, বিশেষ করে রাজনৈতিক বিরোধের সময়ে, মিডিয়া স্বাধীনতার ওপর আঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। ড. হোসেনের মন্তব্য এই প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি জনসাধারণের তীব্র প্রত্যাশা প্রকাশ করে।

এই ঘটনার পর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তদন্তে ত্বরান্বিত হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার বা অপরাধের স্পষ্ট সূত্র প্রকাশিত হয়নি। ড. হোসেন ও গনো ফোরামের নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না হলে মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের আক্রমণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা ক্ষয় করতে পারে। তাই, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের শাসনে আনতে হবে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ড. হোসেনের মন্তব্য ও গনো ফোরামের অবস্থান দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিডিয়া স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সংকেতের ভিত্তিতে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে মিডিয়া নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর ওপর আক্রমণ দেশের মিডিয়া স্বাধীনতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। ড. কামাল হোসেনের তীব্র নিন্দা ও শাস্তি দাবির মাধ্যমে গনো ফোরাম এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়। ভবিষ্যতে এই ধরনের সহিংসতা রোধে সরকারী পদক্ষেপ ও আইনি প্রয়োগের দৃঢ়তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments