মর্গান রজার্সের দু’গোলের সাহায্যে অ্যাস্টন ভিলা ভিলা পার্কে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-১ দিয়ে পরাজিত করে লিগ শীর্ষস্থানে আরসেনের থেকে মাত্র তিন পয়েন্টের ফাঁক কমিয়ে রাখে। এই জয় ভিলার সব প্রতিযোগিতায় দশম ধারাবাহিক জয় নিশ্চিত করে এবং শিরোপা দৌড়ে তাদের অবস্থানকে দৃঢ় করে।
গেমের শুরুর মুহূর্তে রজার্সের প্রথম গোলটি দলকে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করে। দ্রুত পাসের ধারাবাহিকতা শেষে রজার্সের ডান পা থেকে বলটি জালে গিয়ে ইউনাইটেডের রক্ষাকে চমকে দেয়। গোলের পর ভিলার সমর্থকরা “বির্মিংহাম, তুমি শোনো?” চিৎকার করে উল্লাসে মেতে ওঠে, আর কোচ উনাই এমেরি উত্তেজিত হয়ে তার জ্যাকেট আকাশে ছুঁড়ে দেন।
ইউনাইটেডের সমান করার সুযোগ আসে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে, যখন মাতেউস কুনহা প্রথমবারের মতো শক্তিশালী শট মারেন, তবে বলটি বাম পোস্টের ঠিক পাশে গিয়ে মিস করে। পরে কুনহা আবারও সুযোগ পান এবং পেনাল্টি এলাকার কাছাকাছি থেকে শটটি জালে গিয়ে স্কোর সমান করে, ফলে ভিলার দু’গোলকে কনসোলেশন করে।
গেমের মাঝভাগে ইউনাইটেডের ক্যাপ্টেন ব্রুনো ফার্নান্দেস অর্ধেক সময়ে আঘাতের কারণে মাঠ ছেড়ে যান। তার অপ্রত্যাশিত প্রস্থান ইউনাইটেডের আক্রমণকে দুর্বল করে এবং ভিলার রক্ষণাত্মক কাজকে সহজ করে দেয়।
ভিলার আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দেরও শুরুরই সময়ে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হয়। অলি ওয়াটকিন্স লেনি ইয়োরোর ভিতরে কাটার পর শট মারেন, তবে তার সিদ্ধান্তে দেরি হওয়ায় আয়ডেন হেভেন হস্তক্ষেপ করে। প্রথম আট মিনিটের মধ্যে দু’দলই একাধিক শট চালায়, যা গেমের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।
মধ্যমাঠে ইউরির টিলেম্যান্স ম্যানুয়েল উগার্টের কাছ থেকে বলটি ছিনিয়ে নেন, এরপর জন ম্যাকগিন সেনে ল্যামেন্সকে শট ব্লক করতে বাধ্য করেন। ইউনাইটেডের গোলরক্ষক ওয়াটকিন্সের রিবাউন্ডও থামাতে পারেননি, ফলে ভিলার আক্রমণ ধারাবাহিকভাবে চাপিয়ে দেয়। পরের কর্নারে ইয়ান মাতসেনের ভলিতে বলটি সামান্য বাম দিকে গিয়ে রজার্সের ডান হিলের মাধ্যমে গেমের প্রবাহ বজায় রাখে।
বেঞ্জামিন সেস্কোও ভিলার আক্রমণে বড় সুযোগ পেয়েছেন, তবে ভিলার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দ্রুত প্রতিক্রিয়া তাকে থামিয়ে দেয়। সেস্কোর দ্বিতীয় শটেও মার্টিনেজের চমৎকার সেভ গেমের সমতা বজায় রাখে। গেমের অর্ধ ঘন্টার দিকে ম্যাকগিন তিনটি সাদা ইউনাইটেড শার্টের মধ্যে থেকে বল নিয়ে ড্রিবল করে, টিলেম্যান্সের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিলার আক্রমণকে ত্বরান্বিত করে।
এই জয় ভিলাকে শিরোপা লড়াইয়ে দৃঢ় অবস্থানে রাখে এবং আরসেনের কাছ থেকে দূরে না সরে। ভিলার পরবর্তী ম্যাচে তারা লিভারপুলের মুখোমুখি হবে, যেখানে শিরোপা শিরোনামের জন্য পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। ইউনাইটেডের জন্য এই পরাজয় একটি কঠিন ধাক্কা, বিশেষ করে ক্যাপ্টেনের আঘাতের পর। গেমের পরিসংখ্যান দেখায় ভিলার শুটিং নির্ভুলতা এবং রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা এই জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল।



