মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড আন্তর্জাতিক জলে ভেনেজুয়েলার সীমান্তের নিকটে একটি তেল জাহাজের অনুসরণে লিপ্ত হয়েছে। এটি দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এবং দুই সপ্তাহের কম সময়ে তৃতীয়বারের মতো একই ধরনের কার্যক্রম।
একজন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লক্ষ্যবস্তু জাহাজটি ভেনেজুয়েলার অবৈধ স্যানশন এড়ানোর নেটওয়ার্কের অংশ এবং এটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে চলেছে। এছাড়া, জাহাজটি আদালতের আদেশে জব্দের অধীন।
অন্য একটি সরকারি সূত্র যোগ করেছেন যে, জাহাজটি স্যানশনযুক্ত হলেও এখনো কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, জাহাজের উপর চাপ প্রয়োগের পদ্ধতি বিভিন্ন হতে পারে; তা হতে পারে জাহাজের নিকটে নৌকা পাঠানো অথবা বিমান দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা।
এই অনুসরণে জাহাজের সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা নাম প্রকাশ করা হয়নি, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গোপনীয়তার শর্তে কথা বলেছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও একই তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি আলাদা সরকারি সূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সূত্রও জাহাজের ভুয়া পতাকা এবং আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এই কার্যক্রমের পূর্বে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নির্দেশে শনিবার ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি আরেকটি তেল জাহাজ জব্দ করা হয়েছিল। এই জব্দকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশকৃত ‘ব্লকেড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম বলেছেন, কোস্ট গার্ড পেন্টাগনের সমর্থনে জাহাজটি আটক করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবৈধভাবে স্যানশনকৃত তেল পরিবহনকে থামাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নোয়েমের মতে, এই তেল গুলো অঞ্চলের মাদক-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তহবিলের উৎস। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হল এসব তহবিলের সরবরাহ বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট নৌবহরকে ধরা।
এই অনুসরণ এবং পূর্বের জব্দ দুটোই সাম্প্রতিক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা সংলাপে বাড়তি চাপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর উপর চাপ বাড়াতে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ট্রাম্পের প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি সীমিত করার জন্য অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের নৌবহর অনুসরণ আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে এবং ক্যারিবিয়ান বাণিজ্যিক নৌচালনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি স্যানশন লঙ্ঘনকারী নৌবহরকে দমন করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা একই ধরনের অপারেশন চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এই পদক্ষেপের প্রতি মনোযোগ বাড়বে, এবং ভেনেজুয়েলা ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কূটনৈতিক সমন্বয় করতে হবে।



