বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি (BFSA) ১৪ ডিসেম্বর গেজেটে প্রকাশিত নতুন বিধি অনুযায়ী খাবারের বিজ্ঞাপনে ডাক্তার, পুষ্টিবিদ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের অনুমোদন ব্যবহার করা যাবে না। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল ভুয়া স্বাস্থ্যদাবি ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রথা দমন করা।
বিধিগুলি বিশেষভাবে সেই প্রথাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যেখানে পণ্যের উপাদান পরিমাণ অতিরিক্ত উল্লেখ করা হয়, পুষ্টিগুণকে অতিরঞ্জিত করা হয় এবং পুষ্টিকর নয় এমন খাবারকে স্বাস্থ্যকর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
BFSA-র প্রয়োগ বিভাগে কর্মরত আনওয়ারুল ইসলাম সরকার উল্লেখ করেন, অনেক কোম্পানি পণ্যের লেবেলে উল্লেখিত উপাদানের প্রকৃত পরিমাণ না দেখিয়ে বিক্রি করে এবং অপ্রয়োজনীয় পণ্যকে স্বাস্থ্যকর দাবি করে ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করে। এসব অনিয়ম বন্ধ করার জন্যই নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন বিধি অনুযায়ী কোনো বিজ্ঞাপন ভুয়া বা ধোঁকাবাজি তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে না, এবং পণ্যটি নিয়মিত ব্যবহার করলে রোগের ঝুঁকি কমবে বা নির্দিষ্ট কোনো স্বাস্থ্যের উপকার পাবে এমন দাবি করা নিষিদ্ধ।
একটি ঝুঁকি উপাদান পরিবর্তন করলেই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হবে এমন ধারণা আর বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা যাবে না। এ ধরনের দাবিগুলি বৈজ্ঞানিকভাবে অপ্রমাণিত এবং ভোক্তাকে ভুল পথে চালিত করতে পারে।
বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আমদানি করা খাবারকে দেশীয় পণ্যের তুলনায় উৎকৃষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে করে ভোক্তাকে ন্যায়সঙ্গত পছন্দের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
প্রসেসড বা মিশ্র খাবারকে ‘প্রাকৃতিক’ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং অতিরিক্ত সেবনের প্রচার করা বিজ্ঞাপনেও অনুমোদিত নয়। এই ধারা বিশেষত স্ন্যাকস, ফাস্ট ফুড ও প্রস্তুত খাবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ধর্মীয় লেবেল, যেমন হালাল সার্টিফিকেশন, শুধুমাত্র স্বীকৃত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ বা স্বীকৃত সার্টিফিকেশন সংস্থার অনুমোদন পেলে ব্যবহার করা যাবে। অননুমোদিত ধর্মীয় দাবি বিজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
কোম্পানিগুলোকে কোনো পুরস্কার উল্লেখ করতে হলে তা সরাসরি খাবারের নিরাপত্তা বা গুণগত মানের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে; অন্য কোনো পুরস্কার উল্লেখ করা অনুমোদিত নয়। এই নিয়মটি ভোক্তাকে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
নতুন বিধি বাস্তবায়নের ফলে খাদ্য শিল্প, বিশেষত প্রক্রিয়াজাত খাবার উৎপাদনকারী ও বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত সম্মতি ব্যয় বহন করতে হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তার স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও বাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে তারা পণ্যের লেবেল ও স্বীকৃত সার্টিফিকেশনকে ভিত্তি করে ক্রয় সিদ্ধান্ত নেবে, বিশেষজ্ঞের অনুমোদনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে। এই পরিবর্তন শিল্পকে কীভাবে মানিয়ে নিতে হবে, তা সময়ই বলবে।



